দু’ই জেলায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক জনের। জখম হয়েছেন ৫৮ জন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার বীরশিবপুরে মুম্বই রোড়ে। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম রাজু মণ্ডল (৩২)। বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের কামারহাটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটের একটি যাত্রাদলের ২২ জন সদস্য মিনি ট্রাকে করে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে যাচ্ছিলেন অনুষ্ঠান করতে। ট্রাকটি তাঁদেরই। সঙ্গে ছিল যাত্রার সরঞ্জামও। সেতুতে ওঠার সময়ে হঠাৎ ট্রাকটির সামনের ডান দিকের চাকা ফেটে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং-এ ট্রাকটি ধাক্কা মারে। জিনিসপত্র-সহ আরোহীরা রাস্তার উপরে ছিটকে পড়েন। রাজু-সহ ১৮ জন আহত হন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রাজুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। পাঁচজন চিকিৎসাধীন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ট্রাকের চাকাগুলির অবস্থা খুব খারাপ বলে জানা গিয়েছে।
সেই ট্রাক। —নিজস্ব চিত্র।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ হুগলির মগরায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বলাগড়ের কুলগাছির বাসিন্দা জনা ৫০ বরযাত্রী একটি বাসে করে বর্ধমানের আজাপুরে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে মগরার চাঁপারুইয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জি টি রোডের ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালি বোঝাই ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। তাতে ৪০ জন জখম হন। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ১৭ জনের চিকিৎসা চলছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীর মাথায়, হাতে-পায়ে চোট লেগেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন বাচ্চাও রয়েছে।
আহত বাস চালক মতিহার রহমান বলেন, ‘‘আমার গাড়ির গতি খুব বেশি ছিল না। রাস্তার ধারে যে ট্রাকটি দাঁড়িয়েছিল, তার পিছনের আলো জ্বলছিল না। রাস্তা অন্ধকার ছিল। ওই সময় উল্টোদিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রাকের আলো চোখে পড়তেই বাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি। তখন দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা লেগে যায়।’’ পুলিশ জানায়, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। চালক পলাতক।
চুঁচুড়া হাসপাতালে আহত এক বরযাত্রী। ছবি: তাপস ঘোষ।