বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক বছরখানেকের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বাগনানের বাঙ্গালপুর মোড়ে, বাগনান-আমতা রোডে। মৃতের নাম সৌমাল্য প্রামাণিক। দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় দু’ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি, এই এলাকায় রাস্তার উপরে হাম্প তৈরি করতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটিকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন তার বাবা শ্রীমন্ত প্রামাণিক ও মা মহামায়া। তাঁদের বাড়ি বাঙ্গালপুর হালদারপাড়ায়। কাছেই খাদিনান ঘাটে এক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন তাঁরা। এর পরে বেলা ১০টা নাগাদ তাঁরা সাইকেলে চড়ে বাগনান-আমতা রোড ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। শ্রীমন্তবাবু সাইকেল চালাচ্ছিলেন। পিছনে সাইকেলের ‘ক্যারিয়ারে’ তাঁর স্ত্রী ছেলেকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন।
বাঙ্গালপুর মোড়ের কাছে বাগনান-আমতা রুটের আমতাগামী বাসটি সাইকেলে ধাক্কা মারলে শ্রীমন্তবাবু এবং তাঁর স্ত্রী সাইকেল থেকে পড়ে যান। স্ত্রীর কোল থেকে ছিটকে রাস্তার উপরে পড়ে যায় তাঁদের শিশুপুত্র। বাসের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করেন। শ্রীমন্তবাবু এবং তাঁর স্ত্রী-র অবশ্য তেমন কোনও আঘাত লাগেনি।
দুর্ঘটনার পরে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। বাড়িতে এসে ভিড় করছেন প্রতিবেশীরা। কথা বলার শক্তি হারিয়েছেন শ্রীমন্তবাবু ও তাঁর স্ত্রী। প্রত্যদর্শীরা জানান, সাইকেল থেকে পড়ে গিয়েই শ্রীমন্তবাবু বাসের গায়ে চাপড় মেরে সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাসটিতে একটি মাত্র কন্ডাক্টর ছিলেন। তিনি তখন ভিতরে টিকিট কাটতে ব্যস্ত। ফলে শ্রীমন্তবাবু বাসটিকে থামানোর জন্য যে চেষ্টা করেছিলেন তা কাজে লাগেনি। দুর্ঘটনার পরেই বাসটিকে ফেলে চালক ও কন্ডাক্টর পালিয়ে যান। পুলিশ বাসটিকে আটক করেছে।