চিকিৎসকের কিশোরী মেয়ের গলায় ভোজালি ঠেকিয়ে আলমারি থেকে নগদ টাকা, গয়না নিয়ে পালাল দুষ্কৃতীরা। রবিবার ভরসন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির রিষড়া স্টেশনের কাছে বাঙ্গুর পার্কে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার রাত পর্যন্ত অবশ্য দুষ্কৃতীদের কেউ গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঙ্গুর পার্কের একটি আবাসনের তিন তলায় স্ত্রী ও চোদ্দো বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকেন শিশু চিকিৎসক সৌমিত্র উপাধ্যায়। আবাসনের কাছেই তাঁর চেম্বার। রবিবার রাত ৮টা নাগাদ তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে চেম্বারে যান। তাঁর স্ত্রী তখন দোকানে গিয়েছিলেন। নবম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে ঘরে একাই ছিল। অভিযোগ, সওয়া ৮টা নাগাদ চার দুষ্কৃতী দরজায় টোকা দেয়। মেয়েটি দরজা খুললে এক জন জিজ্ঞাসা করে, ‘ডাক্তারসাহেব হ্যায়?’’ মেয়েটি জানায়, বাবা চেম্বারে গিয়েছেন। এর পরেই এক দুষ্কৃতীরা মেয়েটির মুখ চেপে ধরে ভিতরে নিয়ে যায়। এক জন তার গলায় ভোজালি ধরে থাকে। মেয়েটি আর টু-শব্দ করার সাহস পায়নি। বাকি তিন জন ঠাকুরঘরের পাশে থাকা আলমারি খুলে নগদ টাকা, অলঙ্কার, ক্যামেরা, ঘড়ি নেয়। এর পরে একটি জামা ছিঁড়ে মেয়েটির মুখ বেঁধে শৌচাগারে বন্ধ করে দুষ্কৃতীরা পালায়। সৌমিত্রবাবু জানান, শৌচাগারের দরজাটি ভিতর থেকে খোলা যায়। দুষ্কৃতীরা চলে গেলে মেয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে তাঁকে ফোন করে। তিনি চেম্বার থেকে চলে আসেন। পড়শিরাও ছুটে আসেন। রিষড়া থানায় ঘটনার খবর দেওয়া হয়। পুলিশ তদন্তে আসে। পুলিশের অনুমান, দুষ্কৃতীদের মধ্যে কেউ ওই পরিবারের পরিচিত থাকতে পারেন। ঠাকুরঘরের পাশেই যে আলমারি থাকে, তা দুষ্কৃতীরা জানত। কিশোরী মেয়ে ছাড়া ঘরে যে কেউ নেই, এ ব্যাপারেও তারা নিশ্চিত হয়ে ভিতরে ঢোকে। সৌমিত্রবাবু বলেন, ‘‘এমন ব্যস্ত জায়গায় এই ঘটনা কল্পনাও করতে পারিনি। পড়শিরাও আতঙ্কিত।’’ পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজ করা হচ্ছে। লুঠ হওয়া টাকা এবং অন্য জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।