Advertisement
E-Paper

অন্য ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় বিপাকে নীরব মোদী, শুনানি পিছোনোর আর্জি খারিজ করল লন্ডনের আদালত

‘সামারি জাজমেন্ট’-এর সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন নীরব। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (পিএনবি) জালিয়াতি এবং অর্থ পাচার মামলায় ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চালাচ্ছেন ৫৪ বছরের নীরব।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪৯
নীরব মোদী।

নীরব মোদী। —ফাইল চিত্র।

আবার লন্ডনের আদালতে নাকচ হয়ে গেল ‘পলাতক’ ঋণখেলাপি নীরব মোদীর আবেদন। ‘দৃষ্টিশক্তির গুরুতর সমস্যা’ এবং ‘মানসিক অবসাদে’র যুক্তি দিয়ে নীরব তাঁর বিরুদ্ধে ভারতের আদালতে ‘ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’ ঋণ প্রতারণা মামলা পিছিয়ে দেওয়ার কথা বললেও ব্রিটিশ আদালতে তা খারিজ করে দিয়েছে।

লন্ডনের এইচএমপি পেন্টনভিল জেল থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলারের (প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা) ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মামলার শুনানি পর্বে হাজিরা দিতে হয় তাঁকে। প্রসঙ্গত, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ লন্ডন হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মোদীর দুবাইয়ে অবস্থিত একটি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে। আবেদনে জানানো হয়, ‘ফায়ারস্টার ডায়মন্ড এফজ়েডই’ নামে সংস্থার কাছ থেকে মোট ৮০ লক্ষ ডলার পায় তারা। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে ‘সামারি জাজমেন্ট’ দেয় আদালত। তাতে বলা হয়, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে থাকা মোদীর সম্পত্তি নিলাম করে অর্থ উদ্ধারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এজলাসে কোনও এক পক্ষ যদি অনুপস্থিত থাকে অথবা আদালত সংশ্লিষ্ট মামলার কোনও ভিত্তি না পায়, তখন যে নির্দেশ দেয়, আদালতে তাকে বলা হয় ‘সামারি জাজমেন্ট’।

‘সামারি জাজমেন্ট’-এর সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন নীরব। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (পিএনবি) জালিয়াতি এবং অর্থ পাচার মামলায় ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চালাচ্ছেন ৫৪ বছরের নীরব। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র একটি অভিযোগ অনুযায়ী, পিএনবির সঙ্গে সব মিলিয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন নীরব। ওই মামলায় গত বছর নীরবকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল ব্রিটেনের আদালত। ওই মামলার আর এক অভিযুক্ত নীরবের মামা মেহুল চোক্সী বর্তমানে ইউরোপের আর এক দেশ বেলজিয়ামে জেলবন্দি। ২০১৮ সালে প্রথম পিএনবি কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই মামলায় মেহুল, নীরব ছাড়াও নাম জড়ায় পিএনবি-র কিছু কর্মী ও কর্তার। শোরগোল পড়ে গোটা দেশে। কী ভাবে কেলেঙ্কারি হয়েছিল? অভিযোগ, ব্যাঙ্কেরই কয়েক জন কর্মীর সাহায্যে ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করেন নীরব এবং তাঁর মামা মেহুল।

অপরাধটি হয়েছিল মুম্বই কোর্টে অবস্থিত পিএনবি-র ব্র্যাডি হাউস শাখায়। সেখান থেকেই বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার নামে ভুয়ো ‘লেটার অফ আন্ডারটেকিং (এলওইউ)’ জারি করে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছিল! কোনও বিদেশি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ভারতীয় কোনও ব্যাঙ্কের এলওইউ জারি করা প্রয়োজন ছিল। তবে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নিয়ম অনুযায়ী, নির্দেশিকা জারির পর থেকে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। তার মধ্যেই ঋণ শোধ করতে হয়। কিন্তু অভিযোগ, পিএনবি অনুমোদিত এলওইউ আরবিআইয়ের নিয়ম না মেনেই জারি করা হয়েছিল। সেখানে সময়ের উল্লেখ ছিল না। এমনকি, তদন্ত এড়াতে পিএনবি-র কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় তথ্য নথিভুক্তও করা হয়নি। জানা যায়, এই কারণে পিএনবি-র ৬৩৪৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল।

Nirav Modi UK Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy