সাতসকালেই দোতলা থেকে গোঙানির শব্দ শুনে ছুটে গিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। গিয়ে তাঁরা দেখেন, গৃহকর্তার গলায় গভীর ক্ষত। রক্ত বেরিয়ে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। দেহের পাশেই পড়ে একটি ছুরি।
বাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে ছোটেন হাসপাতালে। কিন্তু ওই ব্যক্তিকে বাঁচানো যায়নি।
শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার সালকিয়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম দেবাশিস ভক্ত (৪৫)। রামকৃষ্ণ আচার্য লেনের বাসিন্দা দেবাশিসবাবু পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। সালকিয়ায় পারিবারিক সোনার দোকানের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে তাঁর
ইটভাঁটা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, দেবাশিসবাবু দোতলার একটি ঘরে একাই ঘুমোতেন। এ দিন সকালে তাঁর ঘর থেকে গোঙানির অস্পষ্ট আওয়াজ শুনে ছুটে যান তাঁর স্ত্রী-সহ পরিবারের বাকিরা। গিয়ে দেখেন, দেবাশিসবাবুর গলা ফালাফাটা করে কাটা। পাশেই পড়ে রয়েছে একটি ফলকাটা ছুরি। এর পরই তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দেবাশিসবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, সম্প্রতি ব্যবসায় গোলমাল চলায় আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন দেবাশিসবাবু। এর জেরে কয়েক মাস ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। পুলিশের অনুমান, এই কারণেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ বলে পরিচিত দেবাশিসবাবুর মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার এক বাসিন্দা সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা ওঁকে পছন্দ করতাম। পাড়ার যে
কোনও অনুষ্ঠানে সাহায্য করতেন। শুনেছিলাম ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ায় মানসিক সমস্যায় ছিলেন।’’
হাওড়ার পুলিশ কমিশনার দেবেন্দ্রপ্রকাশ সিংহ বলেন, ‘‘একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই বলা যাবে ঠিক কী ভাবে মৃত্যু হয়েছিল।’’