Advertisement
E-Paper

কংগ্রেস প্রার্থী নিয়ে কোন্দল

জোটের জট নয়। নিজেদের অন্দরের ‘ঘোঁটেই’ এখনও শ্রীরামপুরে দলীয় প্রার্থী ঠিক করে উঠতে পারল না কংগ্রেস। নেপথ্যে অধীর চৌধুরী-আব্দুল মান্নান দ্বৈরথ।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৬ ০০:৩১

জোটের জট নয়। নিজেদের অন্দরের ‘ঘোঁটেই’ এখনও শ্রীরামপুরে দলীয় প্রার্থী ঠিক করে উঠতে পারল না কংগ্রেস। নেপথ্যে অধীর চৌধুরী-আব্দুল মান্নান দ্বৈরথ।

কংগ্রেস শিবিরের খবর, জেলায় নিজের ঘুঁটি সাজাতে মান্নান এক দিকে যেমন স্থানীয় প্রার্থী চাইছেন, একই সঙ্গে তিনি বার্তা দিতে চাইছেন জেলা কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীরের ঘনিষ্ঠ প্রীতম ঘোষকেও। মান্নান নিজে চাঁপদানিতে প্রার্থী হয়েছেন। পুড়শুড়ায় টিকিট পেয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রতীম সিংহরায়, সপ্তগ্রামে দিলীপ নাথ। তাঁদের দাঁড় করিয়ে জেলায় দলের অন্দরে নিজের জমি অনেকটাই শক্ত করেছেন‌ বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মান্নান। এ বার শ্রীরামপুরেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী তথা নিজের অনুগামী আলোকরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দাঁড় করিয়ে সেই জমি আরও পোক্ত করতে চান তিনি। কিন্তু এই কেন্দ্রে অধীরের পছন্দ শুভঙ্কর সরকারকে। শুভঙ্করবাবু বর্তমানে এআইসিসি সম্পাদক। মান্নান তাঁকে আটকে দিতে মরিয়া।

কংগ্রেসের রাজনীতিতে অধীর-মান্নান দ্বৈরথ বেশ পুরনো। জেলা কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর মনোনীত করা নিয়েই হোক বা লোকসভা নির্বাচনে জেলায় প্রার্থী ঠিক করা, বারবার দু’জনের মতানৈক্য সামনে এসেছে। এ বার শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই নিয়েও সেই মতানৈক্যই প্রকট হয়েছে। মান্নান বলেন, ‘‘শ্রীরামপুরের বর্তমান বিধায়ক এবং সাংসদ বহিরাগত। স্থানীয় প্রার্থী নিয়ে মানুষের আবেগ রয়েছে। হাইকমান্ডকে সব জানিয়েছি। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার হাইকমান্ড নেবে।’’ অধীর-ঘনিষ্ঠ প্রীতমবাবু বলেন, ‘‘শ্রীরামপুরের মানুষ চান, তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরদার প্রার্থী দেওয়া হোক। তাই আলোচনা চলছে।’’

আলোকরঞ্জনবাবু স্বচ্ছ ভাবমূর্তির লোক। দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেস করছেন। প্রচারবিমুখ। জেলায় কংগ্রেস রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। অনেক কর্মী-সমর্থকই প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় কাউকে দেখতে চান। প্রার্থী হিসেবে অনেক রাজ্যনেতারও তাঁকে পছন্দ। অন্য দিকে, শুভঙ্করবাবু নিজে শ্রীরামপুরে প্রার্থী হতে উৎসাহী। তবে, জেলায় দলীয় সংগঠনে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মান্নান আলোকরঞ্জনবাবুর জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাবেন বলেই মনে করছেন অনেকে। বস্তুত, গত লোকসভা নির্বাচনেও হুগলি কেন্দ্রে অধীর ঘনিষ্ঠ প্রীতমবাবুর মনোনয়ন আটকাতে চেষ্টার কসুর করেননি মান্নান। ওই কেন্দ্রে তিনি দলের আইনজীবী-নেতা প্রতীম সিংহরায়কে চেয়েছিলেন। কিন্তু মান্নানের আপত্তি ধোপে টেঁকেনি। প্রতীমবাবুকে কথা দিয়েও প্রার্থী করতে না পারায় এক সময় দু’জনের মুখ দেখাদেখি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঘনিষ্ঠ মহলে প্রতীম প্রায়ই আক্ষেপ করেছেন‌, সারদা মামলা নিয়ে শ্রম এবং অর্থব্যয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু মান্নান যাবতীয় ‘ফুটেজ’ খেয়ে নেন। এ যাত্রায় প্রতীম টিকিট পাওয়ায় দু’জনের পুরনো সম্পর্ক অবশ্য মেরামত হয়েছে।

অবশ্য কংগ্রেসের একটি সূত্র মনে করছে, শুভঙ্করবাবু বা আলোকরঞ্জনবাবুর পরিবর্তে অন্য কাউকেও প্রার্থী করা হতে পারে। কেননা, কলকাতার চৌরঙ্গি কেন্দ্রে সোমেন মিত্র বা সন্তোষ পাঠকের মধ্যে যে কোনও এক জন প্রার্থী হতে পারেন। অপর জন শ্রীরামপুরে চলে আসতে পারেন। তবে সোমেনবাবু নিজে চেয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী শিখাদেবী চৌরঙ্গি কেন্দ্র থেকে দাঁড়ান। কিন্তু দিল্লির নেতারা চান, সোমেনবাবু নিজে ভোটে লড়ুন। আবার সন্তোষ চৌরঙ্গি কেন্দ্র ছাড়তে রাজি নন। এই পরিস্থিতিতে সোমেনও শ্রীরামপুরে আসতে পারেন। গঙ্গাপাড়ের এই শহরে অনেকেই সোমেনবাবুর ঘনিষ্ঠ। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের অনেকের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কও যথেষ্ট ভাল। বছর কয়েক আগে তৃণমূলে আসার আগে কংগ্রেস ছেড়ে সোমেনবাবু যখন নতুন দল করেছিলেন, শ্রীরামপুরে অধুনা তৃণমূল নেতাদের কেউ কেউ তাঁর সঙ্গেই ছিলেন। স্বভাবতই তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতা প্রার্থী হলে লড়াই জমে যাবে বলে কংগ্রেস নেতাদের অনেকে মনে করছেন।

শনিবার রাত পর্যন্ত কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy