Advertisement
E-Paper

গত অর্থবর্ষে পূরণ হয়নি অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রাও

কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১০০ দিনের কাজের মজুরি সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। এতে আপত্তি তুলেছে নবান্ন। কিন্তু রাজ্যে প্রকল্পটি কেমন চলছে? নবান্নের দাবি, শ্রমদিবস সৃষ্টিতে দেশের মধ্যে এ রাজ্য সবচেয়ে এগিয়ে। অথচ, পরিসংখ্যান বলছে, পরিবারপ্রতি শ্রমদিবস সৃষ্টির ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে। কেন? খোঁজ নিল আনন্দবাজার।গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিটি পরিবারের জন্য বছরে কমপক্ষে ১০০ দিন কাজ নিশ্চিত করতে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প। অথচ, এ রাজ্যে ১০০ দিনই কাজ পেয়েছে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! হাওড়ার বাগনান-১ ব্লকের বাঙালপুর পঞ্চায়েতেই গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০০ দিনই কাজ পেয়েছে মাত্র ৩৯টি পরিবার।

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৬ ০২:০৩

নামেই ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প!

গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিটি পরিবারের জন্য বছরে কমপক্ষে ১০০ দিন কাজ নিশ্চিত করতে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প। অথচ, এ রাজ্যে ১০০ দিনই কাজ পেয়েছে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! হাওড়ার বাগনান-১ ব্লকের বাঙালপুর পঞ্চায়েতেই গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০০ দিনই কাজ পেয়েছে মাত্র ৩৯টি পরিবার। কিন্তু শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৯৯টি!

কোনও বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়, এমন ঘটনা যে রাজ্যের বহু পঞ্চায়েতেই ঘটছে, মানছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কর্তারা। তাঁরা এ-ও স্বীকার করছেন, শ্রমদিবস সৃষ্টির ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে এ রাজ্য এগিয়ে থাকলেও পরিবারপ্রতি গড় শ্রমদিবস সৃষ্টির ক্ষেত্রে বরাবরই পিছিয়ে। তথ্য বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে এ রাজ্যে ২৮ কোটি ৬৬ লক্ষ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছিল। যা ছিল দেশে সর্বোচ্চ। কিন্তু পরিবারপ্রতি গড় শ্রমদিবস সৃষ্টি হয় মাত্র ৪৭টি। অর্থাৎ, এ রাজ্যে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারকে মাত্র ৪৭ দিন কাজ দিতে পেরেছে সরকার। অর্থাৎ, অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি। অথচ, কয়েকটি রাজ্য পরিবারপিছু ৬০ দিন পর্যন্ত কাজ দিয়ে ফেলেছে। আর সারা দেশের গড় ছিল ৪৮ দিন।

Advertisement

পরিবারপ্রতি ১০০ দিনই কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য কেন পিছিয়ে?

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পে জবকার্ডধারীরা (এই প্রকল্পে কাজের জন্য আবেদনের ভিত্তিতে পঞ্চায়েত যে কার্ড দেয়, সেটাই জবকার্ড। এই কার্ড থাকলে তবেই কেউ কাজের আবেদন করতে পারেন) আবেদন করলে ১৪ দিনের মধ্যেই কাজ দিতে হয়। এই সুযোগেই কোনও প্রকল্প শুরু হলে সব জবকার্ডধারী হইহই করে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ফলে, বেশি মানুষকে হয়তো কাজ দেওয়া যায়, কিন্তু জবকার্ডধারী সব পরিবার প্রতি ক্ষেত্রে কাজ নাও পেতে পারে। আবার পেলেও ১০০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না-ও হতে পারে।

বাগনানের বাঙালপুর পঞ্চায়েতের কথাই ধরা যাক। সেখানে মাত্র ৩৯টি পরিবার চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ১০০ দিন কাজ পেলেও মোট জবকার্ডধারীর পরিবার রয়েছে ৩ হাজার ১০৯টি। কজের জন্য আবেদন করেছে ২১১৭টি পরিবার। কাজ পেয়েছে ২০৪২টি। এতগুলি পরিবারকে কাজ দিতে গেলে যে পরিবারপিছু মোট শ্রমদিবস কমে যায়, তা মানছেন পঞ্চায়েত কর্তারা।

বস্তুত, বছর দশেক আগে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকেই গ্রামে গ্রামে জবকার্ড তৈরি করানোর জন্য ব্যাপক প্রচার চালানো হয় প্রশাসনের তরফে। পঞ্চায়েতের কর্তারাই মানছেন, সেই সুযোগে এমন বহু পরিবার জবকার্ড করায়, যাদের এই প্রকল্পে কাজের প্রয়োজন নেই। কিন্তু আইনানুযায়ী, আবেদন করলে সেই সব পরিবারকেও কাজ দিতে হয়। ফলে প্রচুর মানুষ কাজ পাচ্ছেন, টাকাও খরচ হচ্ছে। কিন্তু পরিবারপ্রতি গড় শ্রমদিবস সৃষ্টিতে রাজ্য পিছিয়ে থাকছে।

সমস্যা যেখানে জানা, সেখানে সমাধানের রাস্তা কতদূর?

এই প্রকল্পে ভিড় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। যে সব পরিবারের সত্যি কাজ দরকার, তাঁদেরই যাতে কাজ দেওয়া হয়, সেটাই সুনিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। তবে, তার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নিয়ম-কানুনে হাত দেওয়া হচ্ছে না। ১০০ দিনের প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, প্রকৃতই যে সব পরিবারের কাজ প্রয়োজন, তারাই যাতে কাজ পায় সেটা দেখতে হবে। তবে আইনটা এমনই যে কোনও পরিবার যদি কাজ চায়, দিতেই হবে। তাই সুকৌশলে এমন ভাবে প্রচার করতে হবে যাতে যাঁদের তেমন প্রয়োজন নেই, তাঁরা যেন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত না হন। ইতিমধ্যে ১০০ দিনের কাজে জেলার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের এ সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে প্রতিটি পঞ্চায়েতের প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও ওই আধিকারিক জানিয়েছেন। অর্থাৎ, যে সব পরিবার এতদিন এই প্রকল্পকে ‘পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা’ হিসাবে ধরে নিয়েছিল তাদের দূরে সরাতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

এ বার দেখার, পরিবারপ্রতি গড় শ্রমদিবসের সংখ্যা বাড়ে কি না!

১০০ দিনের কাজ

• শ্রমদিবস কী?

এই প্রকল্পে যে টাকা বরাদ্দ হয়, তার বেশিরভাগটা খরচ করতে হয় মজুরি বাবদ। একদিনের মজুরিতে এক জন শ্রমিককে দিয়ে যে কাজ হয় সেটাই একটি শ্রমদিবস।

• পরিবারপিছু শ্রমদিবস কী?

একটি পরিবার বছরে যতদিন কাজ পায়, সেটাই পরিবারপিছু শ্রমদিবস।

• তফাত কোথায়?

বহু লোককে কাজ দিলে শ্রমদিবস বাড়ে। কিন্তু পরিবারপিছু গড় শ্রমদিবস কমে যায়। যে সব পরিবারের প্রকৃত কাজ দরকার, লোক কমিয়ে শুধু তাদেরই কাজ দিলে ওই পরিবারটি বেশিদিন কাজ পায়। তারা বেশি উপকৃত হয়।

Fiscal target
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy