রাজ্য সরকার হুগলিকে ‘নির্মল জেলা’ ঘোষণা করেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সেই নির্মল অবস্থা বজায় রাখতে কালঘাম ছুটছে প্রশাসনের। গৃহস্থালির বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা যেমন এখনও রয়েছে, তেমনই হাট-বাজার, বিদ্যালয়, পঞ্চায়েত বা সরকারি-বেসরকারি ভবনের আশপাশেও জমে থাকছে আবর্জনার স্তূপ। পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে অবশেষে ‘কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প রূপায়ণে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হল জেলা প্রশাসন।
প্রকল্প রূপায়ণের লক্ষ্যে শনিবার চন্দননগরের রবীন্দ্রভবনে এক কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হাজির ছিলেন জেলার সমস্ত বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানেরা। হুগলির অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) বাণীপ্রসাদ দাস বলেন, “জেলার সার্বিক নির্মল অবস্থা বজায় রাখতে সর্বত্র কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনে আধুনিক এবং বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় দুই থেকে তিনটি পঞ্চায়েত এলাকার জন্য একটি করে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছে। পুরসভার ক্ষেত্রেও তাই। পরে ১ হাজার জনসংখ্যাপিছু একটি প্রকল্প রূপায়িত হবে। কঠিন ও তরল পদার্থের সুসংহত ব্যবস্থাপনার মধ্যে কম্পোষ্ট পিট তৈরি, এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত বর্জ্যের প্রক্রিয়াকরণ, তরল বর্জ্য তথা জল নিকাশি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজ করা হবে। প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতকে অন্তত ২ কাঠা জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী যে সব গ্রাম ইতিমধ্যেই ‘নির্মল’ অবস্থা অর্জন করে তা বজায় রাখছে তারা কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি রূপায়ণে অগ্রাধিকার পাবে। যেমন প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, আজীবিকা প্রকল্পের অধীনে জীবিকা মিশন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জাতীয় গ্রামীণ পানীয় জল প্রকল্পে জল সরবরাহ ইত্যাদি। এছাড়াও স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প রূপায়ণ করে গ্রামগুলিকে পুরস্কৃত করা হবে।