Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

বেআইনি নির্মাণে বৈধতা আর নয়, কঠোর হাওড়া

বেআইনি বহুতল ভেঙে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে শহরে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বেআইনি নির্মাণ ভেঙেও দিয়েছে পুরসভা।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৬ মার্চ ২০১৯ ০২:২০
Save
Something isn't right! Please refresh.
হাওড়া পুরসভা। —ফাইল চিত্র।

হাওড়া পুরসভা। —ফাইল চিত্র।

Popup Close

জরিমানা দিয়ে অবৈধ নির্মাণ আর বৈধ করা যাবে না হাওড়ায়। এত দিন জরিমানা দিয়ে বেআইনি নির্মাণ বৈধ করার সুযোগ ছিল হাওড়া পুরসভায়। মঙ্গলবার পুরসভায় বসা প্রশাসকমণ্ডলীর প্রথম বৈঠকে সেই রীতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, হাওড়া পুর এলাকায় অবৈধ নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর। বেআইনি বহুতল ভেঙে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে শহরে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বেআইনি নির্মাণ ভেঙেও দিয়েছে পুরসভা।

বৈঠকের পরে প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন তথা হাওড়ার পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণ বলেন, ‘‘সকলে একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আর বেআইনি নির্মাণের বৈধতা দেওয়া হবে না।’’ যদিও কলকাতা-সহ বেশ কিছু পুরসভায় জরিমানা নিয়ে বেআইনি নির্মাণকে বৈধতা দেওয়া এখনও চালু রয়েছে।

সম্প্রতি হাওড়া পুরসভা পরিচালনার জন্য ছ’জনের প্রশাসকমণ্ডলী গড়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পুর ভবনে প্রশাসকদের বৈঠক শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলার মন্ত্রী অরূপ রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, লক্ষ্মীরতন শুক্ল, প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী, পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণ ও বিশ্ব মজুমদার।

Advertisement

বিজিন কৃষ্ণ জানান, প্রশাসকমণ্ডলী তৈরি হলেও তাঁরা কী কাজ করবেন, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রাজ্য সরকার দেয়নি। এমনকি পুর আইনেও তেমন কোনও উল্লেখ নেই। তাই এ দিন প্রশাসকেরা নিজেরাই ঠিক করে নেন কী ভাবে পুরসভা পরিচালনা করা হবে। সেই মতো সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে বুধবার বৈঠকে বসবেন তাঁরা। মাঝের এক সপ্তাহে প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাবেন চেয়ারপার্সন। এ দিন সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবার বিষয়ে সবিস্তার আলোচনা হয়েছে। যেহেতু কোনও কাউন্সিলর নেই, তাই কাজের সুবিধার জন্য বরো অফিসগুলিকেও যুক্ত করা হবে। রাজ্য সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কাজ করবে এই প্রশাসকমণ্ডলী।

বীরভূমের প্রশাসনিক বৈঠকে হাওড়া শহরের জঞ্জাল সাফাই নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনের বৈঠকেও শহরের জঞ্জাল অপসারণের বিষয়ে কড়া মনোভাব নিয়েছেন প্রশাসকেরা। ঠিক হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা থেকে কর্মী সকলের উপরেই কড়া নজরদারি রাখা হবে। কাজে গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ভাবে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, বর্ষা শুরুর আগেই শহরের নিকাশি নালা থেকে পলি তোলার কাজ শুরু করতে হবে বলে এ দিন সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কাজে সেচ ও রেল দফতরের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য চেয়ারপার্সনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুরবোর্ড না থাকার কারণে ২০১৯-’২০ অর্থবর্ষে পুরসভার বাজেট রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছিলেন প্রশাসক। এ দিন সেই বাজেট প্রশাসকমণ্ডলীর সামনে পেশ করা হয়। পাশাপাশি, পুরসভার আয়-ব্যয়ের বিষয়ে পেশ করা হয় শ্বেতপত্রও। আলোচনায় উঠে আসে, পুর পরিষেবা দিতে প্রায় ৬০-৭০ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। এ ব্যাপারে পুর কমিশনার বলেন, ‘‘পুরসভার রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ে সকলে একমত হয়েছেন। কী ভাবে সেটা হবে, তা পরে আলোচনা হবে।’’ এর সঙ্গে শহরের বিভিন্ন বেহাল রাস্তা চিহ্নিত করে, সেগুলির তালিকা তৈরি করে সারাইয়ের কাজ শুরুর বিষয়েও এ দিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রশাসকেরা। বিজিন কৃষ্ণ জানান, মোট ১৫টি কম্প্যাক্টর কেনার জন্য দরপত্র ডাকা হয়েছে।

পুরসভায় চুক্তির ভিত্তিতে যে ৪১৯ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের পাঁচ মাস ধরে বেতন না পাওয়া নিয়ে এ দিনের বৈঠকে অবশ্য কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি রাজ্য সরকারের বিবেচনাধীন বলেই জানান চেয়ারপার্সন। বৈঠক শুরুর পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা পুরসভার গেটে এসে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement