জায়গাটি ২০০ ফুটের বেশি হবে। তার মধ্যেই রয়েছে ছোট ছোট ঘুপচি। তার সংখ্যা নয় নয় করে ৫০-৬০টি হবে। রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগও। শট সার্কিট বা অন্য কোনও কারণে অগ্নি সংযোগ হলেই বড়সড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। কুলগাছিয়া স্টেশনের গা বরাবর থাকা এই ঘুপচিতে প্রতিদিন শয়ে শয়ে লোকের যাতায়াত রয়েছে।
বিপদ থাকলেও প্রশাসনের চোখের সামনেই রমরমিয়ে চলছে এই কুলগাছিয়া স্টেশন বাজার। শুধু কুলগাছিয়া নয়। হাওড়া গ্রামীণ এলাকাগুলি ঘুরলে নজরে আসবে এমন শয়ে শয়ে সব্জি বাজার, যেগুলি কার্যত জতুগৃহ হয়ে রয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো এমন বাজার গড়ে উঠেছে কোথাও রেলের জায়গায়, কোথাও পূর্ত দফতরের জায়গায়। আবার কোথাও পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির জায়গায়। এর পাশাপাশি ব্যাক্তি মালিকানায়ও এই ধরনের প্রচুর বাজার গড়ে উঠেছে গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন জায়াগায়। অথচ কোথাও কোনও অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা তো নেই-ই, উল্টে বিপজ্জনক অবস্থা ওই সব জায়গাগুলিতে। কারণ, ঘুপচিগুলি তৈরি বাঁশ, ত্রিপল, প্লাস্টিক দিয়ে। যে কোনও সময় বড় সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায়র আশঙ্কা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের নজর নেই বলে অভিযোগও উঠেছে। এমনকী হাওড়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতিরও পক্ষ থেকে কোনও নজরদারি চালানো হয় না বলেও জানা গিয়েছে।
মাস খানেক আগেই হাওড়া শহরের কালীবাবুর বাজারে আগুনে প্রচুর দোকান পুড়ে গিয়েছিল। তার পরে কারওই হুঁশ ফেরেনি। ব্যবসায়ীদের অবশ্য দাবি, তাঁরা অন্যের জায়গায় ব্যবসা করছেন। কর্তৃপক্ষ যেমনটা করে দিয়েছে তাতেই কোনও রকমে বসে ব্যবসা করছেন। কখনও কখনও রাস্তার ধারের কিছু জায়গায় নিজেদের মতো করে ঘুপচি দোকান তৈরি করে নেন। সব্জি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্যবসায়ীকে ব্যবসা করতে গেলে ওই ব্যবসায়ীকে বছরে ২০০ টাকা দিয়ে একটা লাইসেন্স নিতে হয়। এ ছাড়া যে সংস্থার অধীনে এই ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন তাঁদের সেই সংস্থাকেও টাকা দিতে হয়।
তা সত্ত্বেও এই উদাসীনতা কেন? হাওড়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির এক কর্তা বলেন, ‘‘খাতায়-কলমে আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কার্যত আমাদের কিছু করার থাকে না। কারণ, যে সব সংস্থার অধীনে এই বাজারগুলি থাকে তাদের অনুমতি সাপেক্ষেই বাজারগুলি সংস্কার করতে হয়। তা ছাড়া তারা বাজারগুলির কোনও সংস্কার করতে পারে না। কিন্তু দেখা যায় অনেক ব্যাক্তি মালিকানার বাজারের সংস্কার করার জন্য প্রথমে তারা সম্মতি দিলেও পরে তারা রাজি হন না। ফলে ওই সব বাজারের সংস্কার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।’’ কুলগাছিয়া বাজার নিয়ে রেলের কর্তারা কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়্গপুর শাখার এক কর্তা বলেন, ‘‘বহু স্টেশনেই এই অবস্থা রয়েছে। সবটাই অবৈধভাবে চলে। আমরা এ সব ভেঙে তুলে দিই। কিন্তু ফের তাঁরা বসে যান।’’
এ প্রসঙ্গে, হাওড়া জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এই ধরণের কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজে থেকেই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’’