আমেরিকা-ইরানের শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে ফের পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ত্রিদেশীয় সফরে বেরিয়ে প্রথমেই পাকিস্তানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ওমান যান। এ বার রাশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল আরাঘচির। তবে জানা যাচ্ছে, ওমান সফর শেষ করে আবার পাকিস্তানেই যাচ্ছেন তিনি। ইসলামাবাদ ঘুরে রাশিয়ায় যাবেন তিনি।
শনিবারই পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি। ওই বৈঠকের পর রবিবার ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সৈয়দের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তেহরান জানাচ্ছে, মাস্কাটের ওই বৈঠকে হরমুজ় প্রণালী এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকের পর পরই জানা যায়, ফের ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন আরাঘচি।
বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে সিএনএন জানাচ্ছে, ওমান সফর শেষে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। ইসলামাবাদ হয়েই তিনি রাশিয়ায় যাবেন। বস্তুত, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। দু’দেশের মধ্যে দৌত্য করছে ইসলামাবাদই। বিবাদমান দুই দেশের প্রথম দফার শান্তি আলোচনাও হয়েছিল ইসলামাবাদের বৈঠকেই। প্রায় ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠক কোনও সমাধানসূত্র ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এর মধ্যে শনিবারের বৈঠকের পরে ফের পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। আধিকারিক সূত্রে সিএনএন জানায়, ইসলামাবাদের কাছে ‘নূর খান’ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করবে আরাঘচির বিমান। আল জাজ়িরা জানাচ্ছে, সংক্ষিপ্ত এই সফরে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন তিনি। একই সঙ্গে পাক সেনা সর্বাধিনায়ক মুনিরের সঙ্গেও একপ্রস্ত বৈঠকে বসতে পারেন তিনি।
সম্প্রতি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সম্ভাবনা ঘিরেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিলের কথা ঘোষণা করে দেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যম এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন ‘‘যাতায়াতে অনেক সময় নষ্ট হয়। আমাদের অন্য কাজ রয়েছে।’’