Advertisement
E-Paper

দুই গুরুত্বপূর্ণ জলাধার গুঁড়িয়ে দিল আমেরিকার বাহিনী! পানীয় জলের হাহাকার ইরানের শহরে, সঙ্কটে ২০ হাজার পরিবার

গত সোমবার মার্কিন বাহিনীর একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার হরমুজ়ের কাছে ভেঙে পড়ার পর থেকেই ইরানে জোরদার হামলা শুরু করেছে আমেরিকা। মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী একযোগে হামলা চালাচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১০:২৪
ইরানের জলাধার ধ্বংস করল আমেরিকা। ছবি: রয়টার্স।

ইরানের জলাধার ধ্বংস করল আমেরিকা। ছবি: রয়টার্স।

মুহুর্মুহু মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ল ইরানের দক্ষিণের দুই শহর জাস্ক এবং সিরিকে। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে হরমুজ় প্রণালীর কাশেম দ্বীপেও। বুধবার মার্কিন বাহিনীর এই হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ইরানের ওই দুই শহরে। অভিযোগ, সিরিক শহরের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জলাধারকেও নিশানা করা হয়েছে। ওই দুই জলাধার থেকে পানীয় জল সরবরাহ হত বেমানি জেলার সিরিকের ২০ হাজার বাড়িতে। কিন্তু বুধবারের হামলার পরে ওই দুই জলাধার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় চরম জলসঙ্কটে পড়েছেন সিরিক শহরের বাসিন্দারা।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, একটি জলাধার ৫০০ কিউবিক মিটারের এবং অন্যটি ২০০০ কিউবিক মিটারের। শহরের ২০ হাজার পরিবারের কাছে এই দুই জলাধার থেকে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হত। ওই দুই জলাধারের ধ্বংসস্তূপের ছবি প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সিরিকের মানুষ জলের জন্য হাহাকার করছেন। পরিস্রুত পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। জল সরবরাহ স্তব্ধ হয়ে পড়ায় বিপুল সমস্যায় শহরবাসী। তার মধ্যে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এই গরমে জলকষ্ট আরও বেড়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, শহরে পর্যাপ্ত ভূগর্ভস্থ জলাধারও নেই যে এই হাহাকার সামলানো যাবে। ফলে শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি।

এই হামলার নিন্দা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হু-র আঞ্চলিক অধিকর্তা জানিয়েছেন, এ ভাবে জলাধারগুলিকে নিশানা করে মানুষের জীবনকে সঙ্কটে ফেলা হচ্ছে। শহরের মানুষ বাধ্য হয়ে এখন অপরিস্রুত জল খাচ্ছেন। ফলে তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জলসঙ্কট থেকে ২০ হাজার বাসিন্দাকে কী ভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে তৎপর প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার মার্কিন বাহিনীর একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার হরমুজ়ের কাছে ভেঙে পড়ার পর থেকেই ইরানে জোরদার হামলা শুরু করেছে আমেরিকা। মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী একযোগে হামলা চালাচ্ছে। বুধবারই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “ওরা চুক্তির জন্য সমঝোতা করতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তি করলে তা ওদের জন্য খুব ভাল হত। কিন্তু এখন ওদের মূল্য চোকাতে হবে।’’ তার পরেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার তীব্রতা বাড়ায় আমেরিকা।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির তরফে জানানো হয়েছে, কেবল সিরিক এবং মিনাব শহরেই নয়, বন্দর আব্বাস, কাশেম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হানা রুখতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরান।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১২ ঘণ্টা আগে
US Iran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy