২২-৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রলকে এ বার আবগারি শুল্কমুক্ত করে দিল কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রক থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এ কথা জানানো হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ই-২২, ই-২৫, ই-২৭ এবং ই-৩০— এই চার ধরনের জ্বালানির উপর আবগারি শুল্কে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
দেশে জ্বালানি উদ্বেগ কমাতে আগেই ই-২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) জ্বালানি চালু হয়েছিল। এ বার তার চেয়েও বেশি হারের ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের উপর জোর দিতে চাইছে কেন্দ্র। সম্প্রতি ইথানলের ভাগ আরও বৃদ্ধি করে ই-৮৫ (৮৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী নিজে দিল্লির এক পাম্প থেকে ই-৮৫ জ্বালানি বণ্টন করে এই উদ্যোগের সূচনা করেন।
এ অবস্থায় ২২-৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের উপর শুল্ক-ছাড়ের ঘোষণায় জ্বালানির বিষয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট হল বলে মনে করা হচ্ছে। ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারের উপর আরও জোর দিতে চাইছে কেন্দ্র, তা এই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, ভারতের যে পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন, তার বেশির ভাগই আমদানি করতে হয় অন্য দেশ থেকে। তবে বর্তমানে কেন্দ্র জোর দিচ্ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার সুরক্ষিত রাখার উপরে। তাই জ্বালানির জন্য অন্য দেশের উপর নির্ভরতাও কমাতে চাইছে কেন্দ্র। কারণ, অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারের উপরে টান পড়ে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন জ্বালানির অপচয় কমানোর জন্য। প্রয়োজনে বাড়ি থেকে কাজ করার এবং ‘কারপুল’ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
গত মাসে দফায় দফায় পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ মে থেকে ২৫ মে-র মধ্যে চার দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানির দাম। গত ১৫ মে সারা দেশে এক ধাক্কায় লিটার প্রতি তিন টাকা বেড়ে গিয়েছিল পেট্রলের দাম। তার পর ১৯ মে আবার দাম বাড়ে। আরও ৯০ পয়সা করে পেট্রলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার পর ২৩ মে, শনিবার ফের ৮৭ পয়সা মূল্য বৃদ্ধি হয়। পরে ২৫ ফের এক দফা মূল্যবৃদ্ধি হয়। মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ১০ দিনের মধ্যে সাত টাকারও বেশি বৃদ্ধি পায় পেট্রল-ডিজ়েলের দাম। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করতে ২২-৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রলকে উপর আবগারি শুল্কমুক্ত করে দিল কেন্দ্র।