রাজ্যসভার প্রার্থিপদ বাতিলের বিরুদ্ধে এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজন। যে পদ্ধতিতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর আবেদন দ্রুত শোনার আর্জি জানিয়েছেন মীনাক্ষী। সুপ্রিম কোর্টে এখন গরমের ছুটি চলছে। তবে মনে করা হচ্ছে, মীনাক্ষীর আর্জির প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার প্রথম দিকেই এই মামলাটি শুনবে।
মধ্যপ্রদেশে থেকে মীনাক্ষীকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু মামলার কথা গোপন করার অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। মীনাক্ষী মামলা গোপন করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেসও মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে এমন কোনও মামলা থাকার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।
২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় শাসকদল বিজেপির ১৬৩ এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ৬৬ জন বিধায়ক রয়েছেন। আগামী ১৮ জুন তিনটি রাজ্যসভা আসনে সেখানে ভোট হওয়ার কথা ছিল। জয়ের জন্য কোনও প্রার্থীকে অন্তত ৫৮টি প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হত। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে বিজেপির দু’টি এবং কংগ্রেসের একটি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস একটি আসনে লড়লেও বিজেপি তিনটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল। কংগ্রেস আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, তাদের বিধায়কদের কয়েক জনকে ভাঙিয়ে হরিয়ানা-হিমাচল প্রদেশের মডেলে রাজ্যসভা ভোট জয়ের ছক কষছে বিজেপি। রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দল তাই নিজেদের বিধায়কদের কংগ্রেসশাসিত কর্নাটকে পাঠানোর জন্য চার্টার্ড উড়ানের ব্যবস্থা করেছিল। মঙ্গলবার বিকেলে পরিষদীয় দলের সঙ্গে বিমানে সওয়ার হয়েছিলেন নটরাজনও। কিন্তু মনোনয়ন বাতিলের খবর মেলার পরে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়। এর ফলে বিজেপির তিন প্রার্থী— তরুণ চুঘ, রজনীশ অগ্রবাল এবং মহেশ কেওয়াটের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। কারণ মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পেরিয়ে যাওয়ায় কংগ্রেস এখন বিকল্প প্রার্থী দিতেও পারবে না।
বিজেপির তরফে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ অগস্ট এ শ্রীলতা নামে এক মহিলা হায়দরাবাদের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মীনাক্ষী নটরাজন-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ধারা ৩৫৬, ৬১, ৪৫, ৪৬, ৩৫১(২), ৩(৫) এবং ৭৯। ২০২৫-এর ১৭ সেপ্টেম্বর নটরাজনের বিরুদ্ধে একটি নোটিস জারি করা হয়, যাতে তাঁকে হাজির হয়ে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাঁর আইনজীবী ২৪ অক্টোবর একটি পাল্টা হলফনামা দাখিল করেন, যেখানে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয় এবং অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। অভিযুক্ত পক্ষ মামলাটি খারিজ করার আবেদনও জানায়। আবেদনটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যদিও মীনাক্ষীর দাবি, আদালতের তরফে নোটিস পাঠানো হলেও এখনও কোনও ফৌজদারি মামলা রুজু হয়নি তাঁর বিরুদ্ধে।
মীনাক্ষীর প্রার্থিপদ বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বুধবার কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। কমিশনের তরফে কোনও সুরাহার আশ্বাস না মেলায় ফের পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে কংগ্রেসের তরফে। এ বার প্রার্থিপদ বাতিলের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন মীনাক্ষী।