ধর্ষণ মামলার নির্যাতিতাদের অবমাননাকর ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট। গত সোমবার একটি স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলার রায়ে প্রধান বিচারপতি এম এস সোনাক এবং বিচারপতি রাজেশ শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ ঝাড়খণ্ড সরকারকে সব হাসপাতালে এই পরীক্ষা নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশিকা জারির নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ওই নির্দেশিকা অমান্য করে কোনও চিকিৎসক এই পরীক্ষা করালে তা ‘পেশাগত অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এই অবৈজ্ঞানিক পরীক্ষার বিকল্পের জন্য দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলির পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশওদিয়েছে আদালত।
৫৫ পাতার রায়ে হাই কোর্ট আরও বলেছে, এমন মামলায় এফআইআর দায়েরের ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও দু’মাসের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত শেষ করতে হবে। অভিযোগকারিণী কোনও থানায় গেলে, তাদের এলাকার ঘটনা না হলেও সেই থানাকে বাধ্যতামূলক ভাবে জ়িরো এফআইআর গ্রহণ করতে হবে। নির্যাতিতার জবানবন্দি রেকর্ড করবেন অন্তত সাব-ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার মহিলা পুলিশ অফিসার। নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। যৌন নির্যাতনের শিকারদের জন্য ১৮১ নম্বরের সর্বজনীন জরুরি হেল্পলাইনটি বিশেষ ভাবে কার্যকর করার এবং এই ধরনের ঘটনার ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের পড়াশোনা ও মেধাবীদের বৃত্তির সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
যৌন নির্যাতনের শিকার মহিলাদের যৌন সক্রিয়তা নির্ধারণের অবৈজ্ঞানিক শারীরিক পরীক্ষা ‘পিভি টেস্ট’ বা ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’-কে ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রথম অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। ২০২২ সালের ঝাড়খণ্ড সরকার বনাম শৈলেন্দ্রকুমার রাই মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, এই পরীক্ষা চিকিৎসকদের পেশাগত অসদাচরণ। সংবাদ সংস্থা
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)