E-Paper

কেমোথেরাপির ওষুধের দাম বাড়তে চলেছে

অনুমতি দেওয়ার আগে দাম বাড়ানোর তালিকায় থাকা ৮২টি ফর্মুলেশন পরীক্ষা করে দেখেছে সরকারি কমিটি। চারটি ওষুধের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অবিলম্বে দাম বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ০৮:২৭

— প্রতীকী চিত্র।

এমনিতেই ভারতের বাজারে কেমোথেরাপির ওষুধের অভাব রয়েছে। এর মধ্যে কেমোথেরাপির জন্য প্রয়োজনীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ওষুধ— ‘সিসপ্লাটিন’ ও ‘কার্বোপ্লাটিন’-এর দাম বাড়ানোর জন্য সবুজ সঙ্কেত দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বাজারে যে এই ওষুধের অপ্রতুলতা রয়েছে, তা দাম বাড়ানোর অনুমতি দিয়ে কার্যত স্বীকার করে
নিল সরকার।

গত ৭ জুন ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইসিং অথরিটি’ (এনপিপিএ)-এর মেম্বার সেক্রেটারিকে চিঠি লিখে ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, ‘‘ডিপিসিও-র ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন মাননীয় মন্ত্রী (রসায়ন ও সার)।’’ এর আগে ৪ জুন এনপিপিএ ‘ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাকে চিঠি লিখে জানিয়েছিল, দাম বাড়ানোর জন্য তাদের কাছে অনেক আর্জি জমা পড়েছে। উল্লেখ্য, কোনও ওষুধের ব্যয়ভার বহন কিংবা বাজারের তার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার যখন মনে করে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন, তখন তার জন্য সরকারের হাতে রয়েছে
অনুচ্ছেদ ১৯-এর দেওয়া ব্যতিক্রমী ক্ষমতা। এনপিপিএ হল দেশের ওষুধমূল্য পর্যবেক্ষক সংস্থা। এটি রসায়ন ও সার মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর আওতাধীন।

অনুমতি দেওয়ার আগে দাম বাড়ানোর তালিকায় থাকা ৮২টি ফর্মুলেশন পরীক্ষা করে দেখেছে সরকারি কমিটি। চারটি ওষুধের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অবিলম্বে দাম বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে দু’টি হল কেমোথেরাপির ওষুধ— সিসপ্লাটিন ও কার্বোপ্লাটিন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্কটরোগ বিশেষজ্ঞদের প্রায় সকলেই জানিয়েছেন, বাজারে প্রথম সারির কেমোথেরাপি ওষুধের উপস্থিতি কম থাকায় চিকিৎসায় দেরি হয়ে যাচ্ছে, ওষুধের মাত্রা কমাতে হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর কেমোথেরাপি চলে, তাতেও বাধা পড়ছে। চিকিৎসকেরা এ-ও জানিয়েছেন, চাপের মুখে তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে। কিন্তু তাতে রোগীর উপকার হচ্ছে না। বরং রোগী ও হাসপাতাল, দুই দিকেই খরচ বাড়ছে। এ দিকে, বাজারে ওষুধের উপস্থিতি কম থাকার কারণ কিন্তু সরবরাহ কম থাকা নয়। এটি অর্থনৈতিক সমস্যা। ওষুধ সংস্থাগুলি ব্যবসায়িক দিক থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সব ওষুধ তৈরি লাভজনক নয়, সেগুলি উৎপাদন বন্ধ করা হবে। সরকার ওষুধের দাম বাড়ানোর অনুমতি দেওয়ায় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি এ বার উৎপাদন বাড়াবে বলে আশা করা যায়।


(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Cancer ChemoTherapy Price Hike

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy