আর জি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করল কে বা কারা? অনুসন্ধানে নতুন করে সব ফাইল খোলা হবে। এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একই ভাবে আর জি করের ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত সত্য সামনে এনে সমস্ত দোষীর শাস্তি দিতে তাঁরা পদক্ষেপ করবেন বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারও।
বুধবার নিউটাউনের একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পরে শারদ্বত বলেন, ‘‘কোন চিকিৎসকেরা ময়না তদন্তের রিপোর্ট লিখেছিলেন, অভীক-বিরূপাক্ষদের প্যারেডে যাওয়ার জন্য কোন আধিকারিকেরা পুরনো তারিখে নোটিস জারি করেছিলেন সবদেখা হবে।’’
এ দিন দুপুরে স্বাস্থ্য ভবনে এসে দায়িত্বভার গ্রহণ করে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন দুই মন্ত্রী। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোথায় কী ফাঁক রয়েছে, এবং কেন বেহাল অবস্থা সেটা প্রথমে জেনে সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান শারদ্বত। এর জন্য এক মাসের মতো সময় লাগবে বলেও জানান মন্ত্রী। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে প্রাক্তন বিধায়ক চিকিৎসক সুদীপ্ত রায়ের নাম না করেই মন্ত্রী বলেন, ‘‘রায় বংশ পুরো লুটেপুটে খেয়েছেন। এখনও কাউন্সিলে বসে রয়েছেন। ওঁর উচিত ছেড়ে দেওয়া।’’
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ছিল স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্যের উন্নয়নের কাজ না করে শুধু দুর্নীতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘পুরো কর্পোরেট ধাঁচে দুর্নীতি চলেছে।’’ এমনই দুর্নীতির কারণে প্রাথমিক স্তরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বলেই মনে করেন সুমনা। তাঁর কথায়, ‘‘গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা খুবই খারাপ। গ্রাম, ব্লক, মহকুমা, স্টেট জেনারেল হাসপাতালের পরিকাঠামো ঠিক থাকলে, শহরের মেডিক্যাল কলেজে এত চাপ পড়ে না। কী ভাবে প্রাথমিক স্তরের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় সেটাই বড় লক্ষ্য।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)