Advertisement
E-Paper

গোল নয় জাপানিরা খান চারকোনা তরমুজ! সেই ফল কী ভাবে চাষ করতে হয়, কেনই বা ওই আকৃতি?

আকার তো বদলে ফেলা গেল, কিন্তু স্বাদ? স্বাভাবিক জল-হাওয়া-রোদে বেড়ে ওঠা তরমুজের সঙ্গে এর স্বাদের কোনও তফাত হবে না? হবে। আর চৌকো তরমুজের সবচেয়ে বড় চমক সেটাই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১০:০১
চৌকো তরমুজ বৃত্তান্ত!

চৌকো তরমুজ বৃত্তান্ত! ছবি: সংগৃহীত।

তরমুজ কাটার সময় কিংবা ফ্রিজে ঢোকানোর সময়ে কি কখনও মনে হয়েছে, ব্যাপারটা গোল না হয়ে চৌকো হলে সুবিধা হত? যদি কেউ তেমন অলীক ভাবনা ভেবেও থাকেন, তা হলে সেই ভাবনাকে ‘অবাস্তব’ বলে বেশি দূর এগোতে দেননি নিশ্চিত। কিন্তু জাপানিরা তা করেননি। তাঁদের ওই ভাবনা মনে এসেছে এবং তার পরে তারা সমস্যার সমাধানও করেছেন। ফলে গোটা দুনিয়া গোল তরমুজ খেলেও জাপান নিজের জন্য বানিয়েছে ‘চৌকো তরমুজ’।

সৌজন্যে জাপানের অভিনব কৃষি প্রযুক্তি। সেই প্রযুক্তিরই এক নিদর্শন হল চৌকো বা চারকোনা তরমুজ । সত্তরের দশকের শেষের দিকে জাপানের কাগাওয়া প্রিফেকচারের জেনসুজি শহরের কৃষকেরা প্রথম ওই অদ্ভুত আকৃতির তরমুজের চাষ শুরু করেন। কারণ ছিল মূলত দু'টি। এক, সাধারণ গোল তরমুজ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজে বা কোল্ড স্টোরেজে রাখতে অনেক বেশি জায়গা নেয়। দুই, গোলাকার তরমুজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গাড়ি বোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় গড়িয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। চৌকো হলে সেই ঝুঁকি থাকবে কম।

কী ভাবে চাষ করা হয় ওই তরমুজ?

এর জন্য আলাদা করে কোনও বিশেষ বীজ ব্যবহার হয় না। সাধারণ গাছেই তরমুজ ধরে যখন, যখন ফল ছোট আর কাঁচা থাকে, তখন সেই ফল একটি স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিকের চারকোনা এবং দু’মুখ খোলা বাক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গাছের লতার সাথে যুক্ত থেকেও ওই বাক্সের মধ্যেই তরমুজটি বাড়তে থাকে এবং একসময় বাক্সের দেয়ালের চাপে নিখুঁত চৌকো আকার ধারণ করে।

স্বাদ কী রকম, কী কাজেই বা লাগে?

আকার তো বদলে ফেলা গেল কিন্তু স্বাদ? স্বাভাবিক জল-হাওয়া-রোদে বেড়ে ওঠা তরমুজের সঙ্গে এর স্বাদের কোনও তফাত হবে না? হবে। আর চৌকো তরমুজের সবচেয়ে বড় চমক সেটাই। এই তরমুজ খাওয়ার উপযোগী নয়! তরমুজের নির্দিষ্ট আকৃতি ধরে রাখার জন্য পাকার আগেই এগুলিকে গাছ থেকে কেটে ফেলা হয়। ফলে ভিতরের অংশটি কাঁচা, ফ্যাকাশে, স্বাদহীন বা টক থেকে যায়। এই তরমুজ ঘর বা দোকানে সাজিয়ে রাখার মতো আলংকারিক বস্তু হিসেবেই ব্যবহৃত হয় মূলত। উল্লেখ্য, জাপানি সংস্কৃতিতে মহার্ঘ ফল উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে।

দাম কেমন?

ওই তরমুজগুলো অত্যন্ত বিরল এবং উৎপাদন হার মাত্র ১০ থেকে ২৫ শতাংশ। কড়া নজরদারি ও শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় বলে এর বাজার দরও বেশি। এক একটি চৌকো তরমুজের দাম প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে ৮০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

Watermelon Japan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy