Advertisement
E-Paper

পুলিশকর্তাই ‘নীতি-পুলিশ’! আইনজীবীকে হেনস্থায় বিক্ষোভ

‘নীতি পুলিশ’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দম্পতিকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল এক পুলিশকর্তার বিরুদ্ধেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৯ ০৪:৩৭
—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

দিনের কাজ মিটিয়ে সোমবার রাত পৌনে ১১টার সময় আইনজীবী দম্পতি বসেছিলেন চন্দননগরের স্ট্র্যান্ডে। এই ছিল ‘অপরাধ’। তাই সেখানে ‘নীতি পুলিশ’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দম্পতিকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল এক পুলিশকর্তার বিরুদ্ধেই।

যে ঘটনাকে ঘিরে জল গড়াল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত। শহরের ফটকগোড়ার বাসিন্দা তুহিন ঘোষ নামে চন্দননগর আদালতের ওই আইনজীবী এবং তাঁর আইনজীবী-স্ত্রী পিঙ্কিকে হেনস্থার অভিযোগে বিক্ষোভে শামিল হলেন চন্দননগর আদালতের কয়েকশো আইনজীবী, ল-ক্লার্ক এবং আদালতকর্মী।

শেষমেশ চন্দননগর কমিশনারেটের এসিপি (১) যশপ্রীত সিংহ নামে অভিযুক্ত ওই পুলিশকর্তা দুঃখপ্রকাশ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিন্তু আইনজীবীদের অনেকেরই প্রশ্ন, শুধুমাত্র বসে থাকার জন্য কেন ওই দম্পতিকে হেনস্থা করা হবে? পুলিশকর্তা হলে কি ‘নীতি-পুলিশ’ও হওয়া যায়?

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

চন্দননগর আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অশোক দে ‌বলেন, ‘‘পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও আইনজীবী দম্পতির সঙ্গে প্রকাশ্যে পুলিশকর্তার এমন আচরণ মানা যায় না। স্ট্র্যান্ডে ওই সময় অনেকে ছিলেন। উনি দুঃখপ্রকাশ করায় বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হয়।’’ এ ব্যাপারে ওই পুলিশকর্তা বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘‘একটা সমস্যা হয়েছিল। মিটে গিয়েছে।’’ একই প্রতিক্রিয়া চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীরও।

কী হয়েছিল সোমবার রাতে?

তুহিনবাবুরা স্ট্র্যান্ডে জোড়াঘাটের বেঞ্চে বসেছিলেন। সেখানে আরও অনেকে ছিলেন। তুহিনবাবুর অভিযোগ, রাত পৌনে ১১টা নাগাদ যশপ্রীত সিংহ সেখানে গিয়ে তাঁদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁরা কিছুক্ষণ পরেই চলে যাওয়ার কথা বললেও ওই পুলিশকর্তা তখনই সে জায়গা ছাড়তে বলেন। বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়।

তুহিনবাবুর অভিযোগ, ‘‘আমার কোনও কথা না শুনে ওই অফিসার আমার জামার কলার ধরে উঠে যেতে বলেন। প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। উনি আমাকে কটূক্তি করে কান ধরে ওঠবোস করারও নির্দেশ দেন। আমাকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলতে ব‌লেন ওঁর রক্ষীদের।’’

ঘটনার জেরে ভিড় জমে যায়। এক সময় এসিপি ওই আইনজীবীকে দ্রুত ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে গাড়িতে চেপে চলে যান। তুহিনবাবু বিষয়টি সহকর্মীদের জানান। এতেই আইনজীবী মহলে প্রতিক্রিয়া হয়। মঙ্গলবার প্রথমে বিক্ষোভ হয় ওই পুলিশকর্তার দফতর এবং থানার সামনে। যশপ্রীতের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। শাস্তির দাবি তোলা হয়। চন্দননগর থানার আইসি শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় মিটমাটের চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি।

আন্দোলনকারীরা মিছিল করে মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে গিয়েও বিক্ষোভ দেখান। ওই পুলিশকর্তা ঘটনাস্থলে এসে দুঃখপ্রকাশ না করলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে ঠিক হয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই এসিপি ঘটনাস্থলে আসেন

Chandan Nagar Court Lawyers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy