Advertisement
E-Paper

ব্যান্ডেলে লাঠি হাতে মিছিল বিধায়কের

শুক্রবার সকালে ব্যান্ডেল অঞ্চল তৃণমূলের ডাকে জমায়েত এবং মিছিল হয় বিধায়কের নেতৃত্বে।

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২০ ০৫:৩০
মুঙ্গেরের লাঠি হাতে মিছিল। — নিজস্ব চিত্র

মুঙ্গেরের লাঠি হাতে মিছিল। — নিজস্ব চিত্র

ঝাঁটার পরে লাঠি।

রেলের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা হলে লাঠিকেই প্রতিরোধের হাতিয়ার করার ডাক দিয়ে শুক্রবার মিছিল করলেন চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। হাতে লাঠি নিয়েই। প্রয়োজনে ‘রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের’ কথাও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। এ নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির তাল ঠোকাঠুকি শুরু হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ব্যান্ডেল অঞ্চল তৃণমূলের ডাকে জমায়েত এবং মিছিল হয় বিধায়কের নেতৃত্বে। মিছিলকারীদের হাতে ছিল বেতের লাঠি। বিধায়ক বলেন, ‘‘রেল নোটিস দিয়েছিল, আজ উচ্ছেদ করবে। তারই প্রতিরোধে নেমেছি। বুধবার মেয়েরা ঝাঁটা নিয়ে বেরিয়েছিলেন। আজ, ছেলেমেয়ে সবাই মুঙ্গেরের

লাঠি-সহ বেরিয়েছি। আরপিএফের জোর, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা দেখতে চাই।’’

ব্যান্ডেলের সাহেববাগান, সাহেবপাড়া, আমবাগান, ক্যান্টিনবাজার, পিরতলা প্রভৃতি জায়গায় রেলের জমিতে বসতি রয়েছে। সম্প্রতি ওই জায়গা খালি করে দেওয়ার নোটিস দেয় রেল। তাতে সেখানে বসবাসকারীরা সমস্যায় পড়েন। আন্দোলনে নামে তৃণমূল। তাঁদের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কাউকে তোলা যাবে না। চলতি মাসের গোড়ায় অসিতবাবু স্থানীয় মহিলাদের ‘পরামর্শ’ দেন, কেউ নথিপত্র দেখতে এলে তাঁরা যেন ঝাঁটাপেটা করে তাড়িয়ে দেন।

বুধবারের মিছিলে মহিলাদের হাতে ঝাঁটা দেখা যায়। ওই দিনই সুর আরও চড়িয়ে বিধায়ক নিদান দেন, ঝাঁটায় কাজ না হলে রেলের লোকজনকে মুঙ্গেরের লাঠি নিয়ে তাড়া করে এলাকাছাড়া করতে হবে। তার পরেই শুক্রবারের লাঠি-মিছিলকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

এলাকার বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় জানান, উচ্ছেদের বিষয়টি স্থগিত রাখতে তিনি রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। তৃণমূল মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। এই নিয়ে অসিতের পাল্টা, ‘‘যখন নোটিস পড়েছিল, লকেট কোথায় ছিলেন? আমরাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন ওঁর নাটক করার দরকার নেই।’’

এ দিন তৃণমূলের পাল্টা মিছিল করে বিজেপির যুব মোর্চা। মানুষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বিজেপির যুবকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, মানুষের হাতে লাঠি তুলে দিয়ে বিধায়ক অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছেন। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অসিত বলেন, ‘‘হ্যাঁ, দরকার হলে গরিব মানুষের জন্য তাই করব। কেন্দ্রীয় সরকার গরিব মানুষের পেটে লাথি মারছে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে ওঁদের জন্য যা যা করা দরকার, করব। দরকারে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হবে।’’

অসিতের মন্তব্য নিয়ে লকেট বলেন, ‘‘তৃণমূলের ঘর ক্রমশ ফাঁকা হচ্ছে। পায়ের তলা থেকে জমি খসে যাচ্ছে। তাই ঝাঁটা-লাঠি হাতে বেরোচ্ছেন আর উস্কানি দিচ্ছেন। ওঁদের দলটা তো যাত্রাপার্টি। আমাদের উদ্যোগকে নাটক বলে মনে হচ্ছে।’’

তথ্য সহায়তা: তাপস ঘোষ

Stick March Bandel MLA Indian Railways
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy