এ বার অরক্ষিত এটিএম ভেঙে টাকা লুঠ হতে পারে হাওড়ায়। খবর পাওয়া গিয়েছে, ভিন্ রাজ্য থেকে আসা ৫-৬ জনের একটি দল এ বার হাওড়া শহর বা শহরতলিতে আশ্রয় নিয়েছে। রাজ্য গোয়েন্দা দফতর সূত্রে এই খবর আসার পরেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশের। সর্তক করে দেওয়া হয়েছে হাওড়া কমিশনারেটের সব ক’টি থানাকে। বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাত-পাহারা ও ক্লোজ্ড সার্কিট ক্যামেরার নজরদারি। সতর্ক করা হয়েছে হাওড়ার সমস্ত হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিকেও।
হাওড়ায় এটিএম লুটেরার দলটির আশ্রয় নেওয়ার খবরের সত্যতা সরকারি ভাবে স্বীকার করা না হলেও এটিএম নিয়ে যে বাড়তি সর্তকতা নেওয়া হয়েছে, তা মানছেন হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা। হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান সুমিত কুমার বলেন, ‘‘এটিএম-ডাকাতেরা ঢুকেছে বলে আমাদের কাছে এখনও কোনও খবর নেই। তবে প্রতিটি থানাকে রাত-পাহারা বাড়াতে বলা হয়েছে। পাহারার সময়ে প্রতিটি ব্যাঙ্কের এটিএমে ঢুকে নজরদারি চালাতেও বলা হয়েছে।’’
চলতি মাসের ৩ তারিখ রাতে দমদমের নর্দার্ন অ্যাভিনিউ ও নাগেরবাজারের প্রাইভেট রোডে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম লুঠ করে পালায় ডাকাতদল। এর পরে ১৩ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে একটি ব্যাঙ্কের এটিএম ভেঙে টাকা লুঠ হয়। দু’টি ক্ষেত্রেই গ্যাস কাটার দিয়ে এটিএম মেশিন কেটে লুঠ করা হয়েছিল। লুঠের আগে সিসি ক্যামেরার সংযোগও কেটে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। দু’টি ঘটনারই কিনারা আজ পর্যন্ত হয়নি। এমনকী, তার কয়েক মাস আগে বর্ধমানে একই ভাবে এটিএম ভেঙে লুঠ হলেও সেই তদন্তেরও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা শুধুমাত্র বিমানবন্দর থানাকে সর্তক করে দায় সেরেছিলেন। কারণ তাঁরা জানতে পেরেছিলেন, একটি সাদা গাড়ি করে ডাকাতদলটি বিমানবন্দরের কাছে নেমে গিয়েছিল। তার পরে দলটি কোন বিমানে উঠেছিল, তার কোনও হদিস করতে পারেননি তদন্তকারীরা।
ওই ঘটনাগুলির তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে। যা থেকে গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই একই দল ফের এটিএম লুঠের মতলবে কলকাতা ও তার আশপাশে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের হাতে যে সব তথ্য উঠে এসেছে তা হল: ১) দলটি ভিন্ রাজ্য থেকে এসেছে। ২) দলে রয়েছে ৫-৬ জন যুবক, প্রত্যেকের বয়স ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। ৩) দলটি শহরের বিভিন্ন হোটেল বা গেস্ট হাউসে উঠছে পর্যটকের ছদ্মবেশে। ৪) মাঝরাত বা ভোরে গাড়ি ভাড়া করে বেরোচ্ছে শহর দেখতে। তখনই ছকে নিচ্ছে পরবর্তী পরিকল্পনা। ৫) সব সময়েই দলের সঙ্গে থাকছে সিসি ক্যামেরা ঢাকা দেওয়ার জন্য সাদা কাপড়। ৬) সদস্যেরা কথা বলছে হিন্দি বা ইংরেজিতে।
গোয়েন্দাপ্রধান সুমিত কুমার বলেন, ‘‘হাওড়ায় এটিএম ভেঙে ডাকাতি করা সহজ নয়। কারণ শহরের কোণে কোণে সিসিটিভি রয়েছে। ক্যামেরায় দলটি ধরা পড়বেই। এ ছাড়াও থানাগুলিকে বলা হয়েছে, রাতে পাহারার সময়ে কোনও এটিএমে শাটার নামানো থাকলে তা পরীক্ষা করে দেখতে। পাশাপাশি, রোজ মাঝরাত বা শেষ রাতে এটিএমগুলির উপরে বিশেষ নজর রাখতে।’’