Advertisement
E-Paper

ভোট বয়কটের ডাক বনাম প্রার্থী সংবর্ধনা

প্রার্থী-আপ্যায়নের ইঁদুর-দৌড়ে সামিল হয়ে গত রবিবারেই বালিতে কাজিয়ার ব্যতিক্রমী নাটক দেখিয়েছিল শাসক দলের বিভিন্ন গোষ্ঠী। বুধবার শহর হাওড়ারই অন্য প্রান্তে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চিরাচরিত রূপ তুলে ধরল দলের অন্য একটি অংশ। দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সেই প্রতিবাদে সামিল আম-বাসিন্দারাও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৬ ০৩:১০

প্রার্থী-আপ্যায়নের ইঁদুর-দৌড়ে সামিল হয়ে গত রবিবারেই বালিতে কাজিয়ার ব্যতিক্রমী নাটক দেখিয়েছিল শাসক দলের বিভিন্ন গোষ্ঠী। বুধবার শহর হাওড়ারই অন্য প্রান্তে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চিরাচরিত রূপ তুলে ধরল দলের অন্য একটি অংশ। দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সেই প্রতিবাদে সামিল আম-বাসিন্দারাও।

বালির তৃণমূল বিধায়ক সুলতান সিংহ এ বার টিকিট পাননি। নতুন প্রার্থীকে নিয়ে টানাটানি চলছে দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে। রবি ও সোমবার নতুন প্রার্থী, জগমোহন ডালমিয়ার মেয়ে বৈশালী ডালমিয়া ওই এলাকায় যাওয়ার পরে কে কী ভাবে তাঁর কতটা আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেন, সেই প্রতিযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দলের নানা শিবির। সেই কাজিয়া অভিনব বলেই তা নিয়ে মুখরোচক জল্পনার অন্ত নেই।

কিন্তু বুধবার দক্ষিণ হাওড়ায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থী ব্রজমোহন মজুমদারকে ঘিরে কাজিয়ার দাঁতনখ বেরিয়ে পড়েছে। ওই কেন্দ্রের জগাছা-সুলতানপুরে দেওয়ালে লিখে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিধায়ক হিসেবে এলাকার রাস্তাঘাট, নিকাশি, পানীয় জলের বিষয়ে যিনি গুচ্ছ গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই ব্রজবাবু কাজের কাজ কিছুই করেননি। তাই বিদায়ী বিধায়ককে তাঁরা আর চান না। দেওয়ালে লাল কালিতে লেখা: ‘যতই করো আনাগোনা, এলাকা থেকে একটা ভোটও পাবে না’।

প্রার্থী-তালিকা ঘোষণার পরের দিন অর্থাৎ গত শনিবারেও ব্রজবাবুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল ওই এলাকা। দক্ষিণ হাওড়া তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম খান ওরফে গুড্ডুর অনুগামীরা আন্দুল রোড অবরোধ করেন। নাজিরগঞ্জ-মেটিয়াবুরুজ ফেরি বন্ধ করে দেন কর্মীদের একটি অংশ। এক বেলার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় মৌড়িগ্রামে ইন্ডিয়ান অয়েল সংস্থার কাজকর্মও।

দক্ষিণ হাওড়ায় দলীয় কাজিয়ার এই আকরিক রূপের পাশে বালির প্রার্থীকে নিয়ে কাড়াকাড়ি অব্যাহত। রবি-সোমবারের প্রার্থী আপ্যায়নের প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে না-পারা এক শ্রমিক-নেতা এ দিন ১২টি বাস বোঝাই কর্মী-সমর্থক নিয়ে হাজির হন বৈশালীদেবীর শেক্সপিয়র সরণির অফিসে। নতুন প্রার্থীকে সংবর্ধনা দিয়ে কিছু ক্ষণ কথাবার্তাও বলেন বেলুড়ের একটি চটকলের শ্রমিক সংগঠনের ওই নেতা বিশ্বজিৎ মণ্ডল।

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘‘বালির অধিকাংশ কাউন্সিলরকেই পুরভোটের বৈতরণী পার করিয়ে দিয়েছি। মিটিং-মিছিলে লোক জুগিয়েছি। তা সত্ত্বেও নতুন প্রার্থীর বালি সফরের কথা কেউ আমাকে জানাল না! কে কত আগে প্রার্থীর কাছে পৌঁছবেন, তার লড়াই চালিয়ে গেল!!’’ বিশ্বজিৎবাবুর দাবি, ওই লড়াইয়ে সামিল হয়ে তিনি নিজেকে, নিজের অবস্থানকে ছোট করতে চান না। তাই সদলবল সটান প্রার্থীর কাছে গিয়ে সংবর্ধনা দিলেন।

রবিবার বালিতে বৈশালীদেবীকে নিয়ে এক দল কাউন্সিলর-নেতার মধ্যে টানাটানি শুরু হয়। পরের দিন দেওয়াল লিখতে গিয়েও তাঁকে দলীয় কর্মীদের ‘দড়ি টানাটানি’র মধ্যে পড়তে হয়েছিল। তবে বৈশালীদেবী এগুলোকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলতে রাজি নন। তাঁর কথায়, ‘‘এ-সবই আমাকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।’’

আর পুরমন্ত্রী তথা হাওড়া জেলায় দলীয় পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম জানান, দলের সকলকেই একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। এ দিন হাওড়া শহরের সব বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ও কাউন্সিলর-নেতাদের নিয়ে বৈঠকে ফিরহাদ বলে দেন, কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিংবা টানাটানি চলবে না।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy