মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ স্লোগানকে সামনে রেখে মিটিং-মিছিল, পথনাটক, স্লাইড শো— কম হয়নি। কিন্তু নজরদারি শিথিল হতেই লাগামছাড়া হয়েছে দুর্ঘটনা। প্রশ্নের মুখে পড়েছে পথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুর্ঘটনা বন্ধ করতে এ বার গাড়ি চালকদের তিন দিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি নিল হুগলি জেলা প্রশাসন। মোটরযান বিভাগ (আরটিও) সূত্রের খবর, আজ, শনিবার চন্দননগর রবীন্দ্রভবনে এবং শ্রীরামপুর রবীন্দ্রভবনে শিবির হবে। কাল, রবিবার আরামবাগ রবীন্দ্রভবনে এবং পরের দিন চুঁচুড়ার একটি প্রেক্ষাগৃহে শিবির হবে। মোটরবাইক, অটো, ট্রেকার থেকে শুরু করে চার চাকার গাড়ি, বাস, ট্রাক— সব ধরনের গাড়ির চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আরটিও দফতরের কর্তাদের দাবি, বহু ক্ষেত্রেই চালকদের বেপরোয়া গতি, সিগন্যাল অমান্য করা বা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এই বিষয়গুলি নিয়ে শিবিরে উপস্থিত চালকদের সচেতন করা হবে। বিভিন্ন দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হবে।
মাস দু’য়েক আগে হুগলিতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় লোকসঙ্গীতশিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের। চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সম্প্রতি কলকাতায় বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর মডেল বন্ধু সোনিকা সিংহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সোনিকা মারা যান। বিক্রমের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ ওঠে। দিন কয়েক আগে সিঙ্গুরে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়াকেক মৃত্যু হয়। মাস আড়াই আগে মোটরবাইকে চেপে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পান্ডুয়ায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়। তার সহপাঠী দুই কিশোরী আহত হয়। ওই সমস্ত ঘটনার কথা উল্লেখ করে জেলা আরটিও দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘দুর্ঘটনা বন্ধ করতে চালকদের সচেতন হয়ে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়াই শিবিরের উদ্দেশ্য।’’
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হুগলিতে ব্যবস্থা নিয়েছিল পুলিশ-প্রশাসন। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। হেলমেট ছাড়া পেট্রোল পাম্প থেকে তেল দেওয়া বন্ধ করা হয়। কিন্তু নজরদারি কমতেই সচেতনতা শিকেয়। প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামী ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী জেলায় আসছেন। তার আগে ফের সচেতনতার বিষয়টি জোরদার করার চেষ্টা চলছে।
অনেকেই মনে করছেন, শিবির করলেই পরিস্থিতির বদল হবে না। জেলার ট্রাক মালিক সংগঠনের কর্তা প্রবীর চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘প্রশাসন ওভারলোডিং রুখতে ব্যবস্থা নেবে বলেছিল। তার তো কিছু হল না। এটাও দুর্ঘটনার কারণ।’’ সাধারণ মানুষের অনেকেরই বক্তব্য, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, অহল্যাবাঈ রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারে সার দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। বাদুড়ঝোলা ট্রেকার রোজকার দৃশ্য। দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হলে এই দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।