মৎস্যজীবীদের ঋণদানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন আরামবাগ মহকুমার মৎস্যচাষিরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, খুব সহজে এবং তাড়াতাড়ি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে মৎস্য দফতর বা সরকারি হস্তক্ষেপও এ ক্ষেত্রে নেই। ফলে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।
ব্যাঙ্কঋণ পাওয়ার এ হেন সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন জেলা মৎস্য দফতরের সহ অধিকর্তা অভিজিৎ সাহা। তিনি বলেন, “মৎস্যচাষিদের ঋনদান নিয়ে জটিলতা কাটাতে বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে আমরা দফায় দফায় আলোচনা চলচে। আশা করি শীঘ্রই সমস্যা মিটে যাবে। তবে চাষিদের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের চেষ্টার কোনও ত্রুটি নেই দাবি করেছেন আরামবাগ মহকুমার ছ’টি ব্লকের মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিকেরা। তাঁদেরও অভিযোগ, মৎস্যচাষিদের ঋণ পরিশোধের হার অন্যান্য সরকারি প্রকল্পগুলির চেয়ে ভাল। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ চাষিদের ঋণ দেওয়ায় অনীহা এবং গড়িমসি করেন। জেলার উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতি মিটিঙে তাঁরা এই সমস্যা তুলে ধরা সত্ত্বেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরামবাগ, খানাকুল, পুড়শুড়া এবং গোঘাটের অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা ম্যানেজাররা জানিয়ছেন, মাছ চাষ সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে যতগুলি ঋণ দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশই পরিশোধ হয়নি। তার উপর মাছ চাষের ঋণে সরকারি কোনও অনুদানও নেই। ফলে তার পরিপ্রেক্ষিতে আমানত দাবি করাও যাচ্ছে না। কারন নাবার্ড অনুমোদিত স্বল্পমেয়াদী মাছ চাষ প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনও আমানত নেওয়া যাবে না। এই অবস্থায় কোনও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই মৎস্যচাষিদের ঋণ দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
নদীবেষ্টিত আরামবাগ মহকুমায় দিঘি, পুকুর, খাল, বিল, জলাশয় সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। বিভিন্ন ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমার ছ’টি ব্লকে মাছ চাষির সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। হুগলি জেলায় মোট মাছ চাষির সংখ্যা খাতায়-কলমে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৯৩ জন। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, হুগলি জেলায় মাছ উৎপাদন বিঘা পিছু প্রায় ১০০ কিলো বাড়োার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতদিন এক বিঘা জলকর প্রতি প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কিলোগ্রাম মাছ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
মহকুমার মাছ চাষিদের পক্ষে আরামবাগের খালোড় গ্রামের অচিন্ত্য ঘোষ, বেউর গ্রামের বাবর আলি, খানাকুলের ঘোষপুর গ্রামের রতন মালিক প্রমুখর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াচ্ছে, অথচ মাছ চাষিদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলি যে রকম টালবাহানা করছে তার সমাধানে কোনও পদক্ষেপ নেই। তাঁদের দাবি, ঋণদানের জটিলতা প্রশাসনিকভাবে যদি রদ করা যায় তা হলে মহকুমার আর্থ সামাজিক চেহারাটাই বদলে যাবে। মহকুমায় বেকার যুবকদের হাপিত্যেশ করতে হবে না। এমনকী সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা টপকে উৎপাদিত মাছ তখন বাইরেও পাঠানো সম্ভব হবে।
লরির ধাক্কায় মৃত্যু। মঙ্গলবার বিকালে গোঘাটের হাজিপুর আদিবাসীপাড়া সংলগ্ন রাস্তায় লরির ধাক্কায় এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানায় মৃতের নাম তাপস রায় (২৮)। বাড়ি হাজিপুর। এ দিন তিনি বাড়ির কাছে কাঠগোলা যাওয়ার পথে উল্টোদিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে চাপা দেয়। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।