Advertisement
E-Paper

কর্মী নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, সঙ্কটে নার্সারি

নিজেদের কর্মী নিয়োগের দাবিতে একটি নার্সারিতে তৃণমূলের দু’টি গোষ্ঠীর খবরদারির অভিযোগ উঠল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে নার্সারিটিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা সেটি আরামবাগের গড়বাড়ি এলাকায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৫ ০১:৩০

নিজেদের কর্মী নিয়োগের দাবিতে একটি নার্সারিতে তৃণমূলের দু’টি গোষ্ঠীর খবরদারির অভিযোগ উঠল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে নার্সারিটিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা সেটি আরামবাগের গড়বাড়ি এলাকায়।

আরামবাগ শহর সংলগ্ন মায়াপুর ২ পঞ্চায়েত এলাকায় আরামবাগ-তারকেশ্বর রোডের গায়েই ওই নার্সারির বয়স ২০ বছরেরও বেশি। নার্সারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে বিভিন্ন ফুল এবং ফলের চারা তৈরি ও পরিচর্যা করে তা বিক্রি করা হয়। নার্সারির ম্যানেজার সুকুর আলি তৃণমূলের স্থানীয় দুই নেতা তথা মায়াপুর-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পলাশ রায় এবং পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতির সদস্য সমরেশ পন্ডিতের বিরুদ্ধে নানারকম অশান্তির অভিযোগ তুলে আরামবাগের তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরার দ্বারস্থ হয়েছেন। বিধায়ক বলেন, “ওই নার্সারির ম্যানেজারের অভিযোগ পেয়েছি। এমনটা হলে খুব খারাপ কাজ করেছে আমাদের ছেলেরা। এ সব চলতে দেওয়া যাবে না। দলীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

নার্সারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সেখানে কর্মীসংখ্যা ২৫ জন। স্থানীয় মহিলা-পুরুষরাই কাজ করেন। পুরনো ৭-৮ জন কর্মী ছাড়া বাকিদের সকলেই তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর দুই নেতা পলাশ রায় ও সমরেশ পন্ডিতের সুপারিশে (চাপে) নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ, এর পরেও দুই নেতার মধ্যে কার বেশি লোক নিয়োগ হয়েছে তা নিয়ে চোটপাট শুরু হয় কর্তৃপক্ষের উপর। যে নেতার লোক কম আছে, তিনি আরও লোক নিয়োগের দাবি করেন। এছাড়াও তৃণমূলের কোনও মিছিল-মিটিং হলেই ওই সব কর্মীদের সবেতন ছুটির দাবি করা হয়। সুকুর আলির অভিযোগ, “এমনিতেই নার্সারি লোকসানে চলছে। এই অবস্থায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সুপারিশমত লোক নিয়োগেও আমাদের আপত্তি ছিল না। তবে এখন একই দলের দু’জন আলাদাভাবে লোক নিয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই অবস্থায় নার্সারি চালানোই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার কথা শুনব তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েই বিধায়কের দ্বারস্থ হয়ে নার্সারিটা যাতে বন্ধ না হয়ে যায় সেই পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করেছি।”

এদিকে নার্সারিতে পরস্পরের প্রভাব কমাতে গত রবিবার সন্ধ্যায় পলাশ এবং সমরেশের দলবল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে জখম সমরেশ ও পলাশ ঘনিষ্ঠ রামপ্রসাদ দাস আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

নার্সারিকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে পলাশবাবু বলেন, “দলের লোক নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি যা করেছি দলের নির্দেশেই করেছি। সমরেশ পন্ডিতের দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।” অন্যদিকে সমরেশবাবুর অভিযোগ, “নিজের পছন্দের লোক নিয়োগ না হলে নার্সারি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে পলাশ। আমাদের কিছু কর্মীকে তাড়াতে চাইছে। অতগুলো মানুষের রুটি রুজি জড়িয়ে থাকার জন্যই নার্সারিটি বাঁচাতে আমি প্রতিবাদ করেছি।”

southbengal arambagh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy