Advertisement
E-Paper

ডোবায় মিলল নিখোঁজ শুভমের দেহ

বাড়ির থেকেই গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল শিশুটি। ছেলে নিখোঁজের জন্য দুই প্রতিবেশীকে সন্দেহ করে বাবা-মা থানায় অভিযোগ করেল পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। কিন্তু ছেলের খোঁজ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মাথায় শুক্রবার কুলগাছিয়ার পটুয়াপাড়ায় বাড়ির পিছনের ডোবা থেকে উদ্ধার হল বছর দেড়েকের শুভম চিত্রকরের মৃতদেহ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৪৩
শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পিছনের এই ডোবা থেকেই উদ্ধার হয়েছে শুভমের মৃতদেহ। ইনসেটে, শুভম চিত্রকর।—নিজস্ব চিত্র।

শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পিছনের এই ডোবা থেকেই উদ্ধার হয়েছে শুভমের মৃতদেহ। ইনসেটে, শুভম চিত্রকর।—নিজস্ব চিত্র।

বাড়ির থেকেই গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল শিশুটি। ছেলে নিখোঁজের জন্য দুই প্রতিবেশীকে সন্দেহ করে বাবা-মা থানায় অভিযোগ করেল পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। কিন্তু ছেলের খোঁজ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত চারদিনের মাথায় শুক্রবার কুলগাছিয়ার পটুয়াপাড়ায় বাড়ির পিছনের ডোবা থেকে উদ্ধার হল বছর দেড়েকের শুভম চিত্রকরের মৃতদেহ। এ দিন দুপুরে ডোবার এক জায়গায় খুব মাছি উড়তে দেখেন কয়েকজন গ্রামবাসী। শুভমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা মাথায় থাকায় তাঁদের সন্দেহ হয়। কয়েকজন ডোবায় নেমে সেই জায়গাটা নাড়াচাড়া করতেই উঠে আসে শুভমের দেহ। খবর পেয়ে পৌঁছে যায় উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ।

এ দিকে, শুভমের মৃতদেহ উদ্ধারের পরে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই শুভম খুন হয়েছে, অভিযোগ তুলে তাঁরা উলুবেড়িয়া-কুলগাছিয়া রোড অবরোধ করেন। একই অভিযোগ করেন শুভমের পরিবারও। পরে উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দিয়ে পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়। এ দিন যখন শুভমের দেহ উদ্ধার হয় তখন তার বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলেকে খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে শিপ্রাদেবী কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। বাবা মহাদেববাবুও ছেলের ব্যাপারে থানায় গিয়েছিলেন।

বাসিন্দাদের দাবি, শুভমের নাক ও কানে রক্ত ঝরার চিহ্ন ছিল। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বর্তমামে তারা পুলিশ হেফাজতে।

Advertisement

উলুবেড়িয়ার ওড়িশা ট্রাঙ্ক রোডের ধারে চিত্রকর পরিবারের বাড়ির। শিপ্রাদেবী ও মহাদেববাবুর দুই সন্তানের মধ্যে শুভম ছিল ছোট। একই বাড়িতে শাশুড়ি ও মহাদেববাবুর দাদাও সস্ত্রীক থাকেন। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ মহাদেববাবু বাড়িতে ছিলেন। মা শিপ্রাদেবী জানান, তিনি রান্নাঘরে ছিলেন। শুভম উঠোনে খেলছিল। পাছে এ দিক ওদিক চলে যায় সে জন্য একটি খুঁটির সঙ্গে শুভমকে কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেন। বাড়ির অন্যরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বেলা ১২টা নাগাদ শাশুড়ি অঞ্জলি দেবী ছেলের কাছে বসে খাচ্ছিলেন। খাওয়ার পরে তিনি বাড়ির পাশে নলকূপে বাসন ধুতে যান। ফিরে দেখেন খুঁটির দড়ি কাটা পড়ে আছে। শুভম নেই। চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেন তাঁরা। কোথাও শুভমকে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন শুভমের পরিবার। দুই প্রতিবেশীকে সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy