বৈঠকের পরে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন খানাকুল রাজা রামমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেবনারায়ণ সাহা। কলেজ পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার বলেন, ‘‘একটা সমন্বয়ের সমস্যা হয়েছিল। মিটে গিয়েছে।’’
কলেজ সূত্রে জানা যায়, আগামী ডিসেম্বর মাসে কলেজে ছাত্র সংসদ গঠিত হওয়ার কথা। তাই নিয়ে টিএমসিপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই মারামারি হয়। গত ২৬ অগস্ট তৃণমূলের ছাত্র সমাবেশে যাওয়ার জন্য দুই গোষ্ঠী পৃথকভাবে ব্যবস্থা করে। তাতে এক পক্ষের ভিড় বেশি হয়। তারই জেরে পরের দিন অর্থাৎ ২৭ অগস্ট কলেজে ওই দুই গোষ্ঠীর মারামারি হয়। ঝামেলা থামাতে এগিয়ে আসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেবনাথ সাহা-সহ অন্য শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান এবং শিক্ষাকর্মীরা। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে দেবনাথবাবু থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দু’পক্ষের ৫ জন ছাত্রকে থানায় নিয়ে যায়। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফোনে কলেজ পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা সাংসদ অপরূপা পোদ্দারকে জানান।
কলেজের একটা অংশের অভিযোগ, পুলিশ ডাকার পরেই দেবনাথবাবুর সঙ্গে ঝামেলা হয় সাংসদের। তাঁকে কেন অন্ধকারে রেখে কাজ করা হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলে সাংসদ অপরূপাদেবী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপমানজনক কথা বলেন বলে অভিযোগ। তারই জেরে গত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেবনাথবাবু বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র পাঠান বলে কলেজের একটা অংশের দাবি।
তবে কলেজ পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে এই যুক্তি দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ১ সেপ্টেম্বর অপরূপা পোদ্দারের কাছে পদত্যাগপত্র ইমেল করে পাঠান। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘‘নিজের মতো করে কলেজ চালাতে আমি বাধা পাচ্ছি। তাই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা সাংসদের কাছে ইমেল করেছি। সেই সঙ্গে পদত্যাগপত্র বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’’ তবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সেই চিঠি পাঠানো হয়নি কলেজের তরফে। এর পরেই যোগাযোগ করা হলে সাংসদ বলেছিলেন, ‘‘আগামী ১৯-২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ন্যাক কলেজে আসছে। ৬ সেপ্টেম্বর পরিচালন কমিটির বৈঠক আছে। ছোটখাট গোলমাল হয়েছিল মিটি যাবে।’’ মঙ্গলবার সেই বৈঠক হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেবনারায়ণবাবু বলেন, ‘‘পরিচালন কমিটির বৈঠকে সমস্যা মিটি গিয়েছে। আমার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’’