স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু নিজের পরীক্ষা করে সংক্রমণ মেলেনি। তবুও ‘পাড়ার কিছু লোক’-এর আপত্তিতে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে হোটেলে ঠাঁই নিতে হয়েছে এক ব্যক্তিকে। জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা মোড়ের কাছে একটি এলাকার ঘটনা। আপাতত ওই হোটেলেই রয়েছেন ওই ব্যাঙ্ক কর্মী।
দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দা ওই দম্পতি জলপাইগুড়ির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কর্মরত। কাজের সূত্রে কদমতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গত সপ্তাহে মহিলা ব্যাঙ্ককর্মী করোনা-আক্রান্ত হন। তাঁর উপসর্গ না থাকায় চিকিৎসক বাড়িতেই থাকতে বলেছিলেন বলে দাবি। আক্রান্ত মহিলার কথায়, ‘‘আমি বাড়িতে থাকলে পাড়ার অনেকে ভয় পেতে পারেন ভেবে হাসপাতালে ভর্তি হতে চাই।’’ ২১ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এর পরেই মহিলার স্বামী শোনেন, তাঁকে বাড়িতে থাকতে দিতে ‘পাড়ার কিছু লোক’ আপত্তি করছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার নেগেটিভ রিপোর্ট দেখিয়েও থাকতে পারিনি।’’ শেষ পর্যন্ত কিছু সহকর্মীর সাহায্যে শহরের একটি হোটেলে ঠাঁই নিয়েছেন। তবে সব পড়শিকে দোষ দিতে চান না তিনি। বলেন, ‘‘অনেক পড়শির সাহায্য পেয়েছি। তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। শুনেছি কয়েক জন আমার থাকা নিয়ে আপত্তি করেছিল। তাঁরা আমার আশেপাশেও থাকেন না।’’
জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারির কথায়, “সরকারি বিধিনিষেধ মেনে আমরা তো করোনা রোগীদেরই বাড়িতে রেখে চিকিৎসার কথা বলছি। যিনি সংক্রমিত হননি, তাঁকে থাকতে দিতে তো কোনও বাধাই আসা উচিত নয়।” যদিও সুস্থ হয়েও ওই বাড়িতে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন ওই দম্পতি।