সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভাজন আনার জন্য বিজেপি নগদ টাকা ঢালছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সম্মেলনে মমতা সরাসরি বলেন, ‘‘বিজেপির কিছু নেতা সংখ্যালঘুদের ভাগাভাগি করার জন্য ক্যাশ মানি (নগদ টাকা) তুলে দিয়েছে। আর সিপিএমের তো কোনও লজ্জা নেই!’’ নাম না করে আক্রমণ শানান ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা তথা ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দিকেও। মমতা এ-ও বলেন, তিনি চান না ফুরফুরা শরিফ রাজনীতিতে প্রবেশ করুক। তাঁর কথায়, ‘‘ফুরফুরা শরিফ রাজনীতিতে প্রবেশ করুক, আমি চাই না। যেমন চাই না, বেলুড় মঠ রাজনীতিতে প্রবেশ করুক।’’
মমতার এ কথার প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেনি বিজেপি। রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের রাজনীতিটাই বিভাজন আর ধর্মীয় মৌলবাদকে উস্কানি দেওয়ার রাজনীতি। বিজেপি আর সঙ্ঘের ভয় দেখিয়ে তৃণমূল মৌলবাদীদের উন্মাদনা জারি রাখতে চায়। গত ১২ বছরে সংখ্যালঘুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন, সম্পত্তিহানি হয়েছে, প্রাণ গিয়েছে। বাংলার শিক্ষিত, প্রগতিশীল, সচেতন সংখ্যালঘুদেরও ভাবতে হবে, তাঁরা আর কত দিন ভোটার হয়ে বাঁচবেন।’’
আরও পড়ুন:
মমতা নেতাজি ইনডোরে সোমবার আরও বলেন, ‘‘আর একটা জুটেছে। তাঁকে টাকা দিয়ে নেতা করবেন ভাবছেন। খালি দাঙ্গা লাগাবে!’’ অনেকের মতে, ‘আর একটা’ বলতে মমতা নওশাদকেই নিশানা করতে চেয়েছেন। তৃণমূল আগেও আইএসএফকে ‘ভোট কাটুয়া’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে। মমতা নিজেও বলেছিলেন, "ওরা হায়দরাবাদের দলটার (আসাদউদ্দিন ওয়েসির মিম) মতো।" সোমবার একেবারে ইসলামি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সভায় আইএসএফকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা পরিবারের কেউ কেউ লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তাঁদের অনেকেই আবার নওশাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত। অনেকের মতে, সে কারণেই হয়তো সামগ্রিক ভাবে সংখ্যালঘুদের কাছে বার্তা দিতে মমতা বলেছেন, তিনি চান না ফুরফুরা শরিফ রাজননীতিতে প্রবেশ করুক।
নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মমতা সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে মাথা ঠান্ডা রাখারও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘‘অনেক সময়ে সংখ্যলঘুরা তাড়াতাড়ি উত্তেজিত হয়ে যান। আমি বলব, এটা করবেন না। তা হলেই বলবে, সংখ্যালঘু মানেই সন্ত্রাসবাদী। এনআইএ দিয়ে দাও।’’