Advertisement
E-Paper

ঘরছাড়া হওয়ার ভয়, হেঁটে হাসপাতালের পথে আক্রান্ত

গত পাঁচ দিন ধরে জ্বর, গলা খুশখুশের উপসর্গে ভুগছেন ওই ছাত্র। বুধবার মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২০ ০৭:০১
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

কোভিড-ভীতি কী ভাবে রোগের সঙ্গে লড়াইয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্ত এক কলেজ ছাত্রের অভিজ্ঞতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুল্যান্সের অপেক্ষায় যাদবপুর থানার উল্টো দিকের ফুটপাতে বসে থাকার পরে হাল ছেড়ে দিয়ে হেঁটেই এম আর বাঙুরের উদ্দেশে রওনা হলেন তিনি। আর এই পরিস্থিতির জন্য ভাড়াবাড়ি থেকে বার করে দেওয়ার ভয়ই দায়ী বলে জানালেন আক্রান্তের বান্ধবী।

গত পাঁচ দিন ধরে জ্বর, গলা খুশখুশের উপসর্গে ভুগছেন ওই ছাত্র। বুধবার মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ দিন বিকালে রিপোর্ট পজ়িটিভ এলে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। উপসর্গের মাত্রা শুনে আক্রান্তের ঠিকানায় অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানোর কথা বলে স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু পাড়ায় স্বাস্থ্য দফতরের অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকলে তাঁকে বাড়ির মালিক বার করে দেবেন, এই আতঙ্কে আক্রান্ত স্বাস্থ্য দফতরকে জানিয়ে দেন, অ্যাম্বুল্যান্স আসার প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেই বাঙুরে চলে যাবেন।

এ দিন সন্ধ্যার কিছু আগে গড়ফা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। কিন্তু লকডাউনের বাজারে কোনও গাড়ি না-পেয়ে হেঁটে যাদবপুর থানা পর্যন্ত যান। অভিযোগ, সন্ধ্যা সাতটা থেকে ঘণ্টা তিনেকের বেশি সময় আক্রান্ত থানার কাছে বসেছিলেন! আক্রান্তের বান্ধবী জানান, বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স সাড়ে ছ’হাজার টাকা চাইছিল। অত টাকা তাঁদের কাছে ছিল না। পুলিশকে গাড়ির ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘ওসি স্বাস্থ্য দফতরের এক জনের নম্বর দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকবার ফোন করার পরও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা হয়নি।’’

আক্রান্তের বান্ধবীর মতে, ‘‘কোভিড সন্দেহভাজন হওয়ায় আমাকে ভাড়াবাড়ি থেকে প্রায় বের করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমার বন্ধু সেই ঘটনার সাক্ষী। সে জন্যই ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে চায়নি।’’ চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য রোগ গোপনের প্রবণতা বাড়ছে। আর তা সংক্রমণ বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক হয়ে উঠছে।

বাঙুরের সুপার শিশির নস্কর বলেন, ‘‘ঘটনাটি জানা মাত্র অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ পুলিশের বক্তব্য, বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও আক্রান্ত রাজি হননি। এর পর স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে কথা বলে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়।

Coronavirus Health COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy