E-Paper

এক পদের মিড-ডে মিল রান্না কাঠের উনুনে, খোঁজ গার্হস্থ্য সিলিন্ডারেরও

শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি রান্নাঘরের কর্মীরা জানাচ্ছেন, শুক্র, শনি ও রবিবার স্কুল ছুটি থাকায় তাঁরা এখন কিছুটা স্বস্তিতে। এই তিন দিনে তাঁরা গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডার জোগাড় করার চেষ্টায় থাকবেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কলকাতা শহরে ৯৭টি কমিউনিটি রান্নাঘর থেকে বিভিন্ন স্কুলে মিড-ডে মিল সরবরাহ করা হয়। সমগ্র শিক্ষা মিশনের চেয়ারম্যান কার্তিক মান্না জানাচ্ছেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গ্যাসের সঙ্কট শুরু হওয়ার পরে প্রথম দিকে হাতে গোনা কয়েকটি কমিউনিটি রান্নাঘরে কাঠের উনুনে রান্না হচ্ছিল। এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যে সব কমিউনিটি রান্নাঘরে অতিরিক্ত জায়গা আছে, সেখানে কাঠের উনুনেই রান্না করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে, যে হেতু বাণিজ্যিক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, তাই গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডার পেলে রান্না করা যাবে তাতেও।

শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি রান্নাঘরের কর্মীরা জানাচ্ছেন, শুক্র, শনি ও রবিবার স্কুল ছুটি থাকায় তাঁরা এখন কিছুটা স্বস্তিতে। এই তিন দিনে তাঁরা গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডার জোগাড় করার চেষ্টায় থাকবেন। একটি কমিউনিটি কিচেনের কর্ণধার ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‘বাণিজ্যিক গ্যাস তো মিলছে না। তাই এখন আমরা গার্হস্থ্য ব্যবহারের গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতে তো সব মেনু হচ্ছে না। এই তিন দিন ছুটি থাকায় কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার যদি মজুত করতে পারি, তা হলে সোমবার থেকে দু’-তিন দিন খানিকটা নিশ্চিন্ত থাকা যাবে।’’

আর এক কমিউনিটি রান্নাঘরের কর্ণধার শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমরা এত দিন বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দিয়ে কাজ চালিয়েছি। বর্তমানে সেই সিলিন্ডারের জোগান না থাকায় এ বার কাঠের উনুনে ফিরে এসেছি। কিন্তু তাতে রোজ হাজার পাঁচেক পড়ুয়ার রান্না করাও খুব কষ্টসাধ্য। আমরা তো কাঠের উনুনে রাঁধতে অভ্যস্ত নই। তাই মাঝেমধ্যেই হাত পুড়ে যাচ্ছে। এই ভাবে আর কত দিন চলবে?’’ দমদমের একটি কমিউনিটি রান্নাঘরের তরফে নভোনীল রায়চৌধুরী বললেন, ‘‘যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল চলে, সে সব জায়গায় বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান ঠিক থাকবে বলে জানিয়েছিল বিভিন্ন গ্যাস সংস্থা। কিন্তু কোথায় সেই জোগান? আমরা তো দীর্ঘদিন ধরে কাঠের উনুনেই রান্না করে যাচ্ছি।’’

কলকাতার সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মিড-ডে মিলে আপাতত একটি করে পদই রান্না করে পাঠানো হচ্ছে। তবে, নির্দিষ্ট দিনে ডিম সিদ্ধ যাতে দেওয়া হয়, কমিউনিটি রান্নাঘরগুলিকে সে ব্যাপারেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রোজই বিভিন্ন আনাজ সহযোগে একটি খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে। যে সব আনাজ বা ডাল সিদ্ধ হতে সময় লাগে, সেগুলি আপাতত রান্নায় ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

LPG Crisis School students mid-day meal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy