×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৫ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

এক্সপ্রেস বা মালগাড়ি, নারীর হাতে স্টিয়ারিং

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৯ মার্চ ২০২০ ০৪:১১
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

কোথাও স্টেশন সামলানোর ভার কাঁধে তুলে নিলেন তাঁরা। কোথাও ছোটালেন বাতানুকূল এক্সপ্রেস ট্রেন। লোকাল ট্রেন এবং পণ্যবাহী মালগাড়ি ছোটাতেও দেখা গেল তাঁদের।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলে মহিলাদের ক্ষমতায়নে রবিবার এমনই ছবি তুলে ধরা হল। চক্ররেলের প্রিন্সেপ ঘাট স্টেশনটি শিয়ালদহ ডিভিশনের প্রথম মহিলা পরিচালিত স্টেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এ দিনই। ওখানে স্টেশনমাস্টার মহিলা, সিগন্যাল, পয়েন্ট ও টিকিট কাউন্টার সামলানোর যাবতীয় দায়িত্ব সামলাবেন তাঁরাই।

আসানসোল ও বর্ধমানে মালগাড়ি চলেছে মহিলা লোকোচালক ও গার্ডদের তত্ত্বাবধানে। বর্ধমান থেকে একটি মালগাড়ি ডানকুনি পর্যন্ত আসে তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই। শিয়ালদহ-রানাঘাট মাতৃভূমি লোকাল সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত ট্রেন হিসেবে রওনা হয় বিকেলে। গত বছরই মহিলা চালক ও গার্ডের তত্ত্বাবধানে ওই ট্রেন চালানো শুরু হয়েছিল। এ দিন টিকিট পরীক্ষক ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রেলরক্ষী বাহিনীর কর্মীরাও ছিলেন মহিলা। দক্ষিণ-পূর্ব রেলে মেয়েরাই ছুটিয়েছেন এক্সপ্রেস ট্রেন। পুরী-দিঘা সাপ্তাহিক এক্সপ্রেসকে খড়্গপুর থেকে দিঘা নিয়ে যান মহিলা কর্মীরা। চালক হিসেবে অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট সোমা সরকার, গার্ড বিউটি ভট্ট-সহ মোট ৫৬ জন মহিলা কর্মী ছিলেন ওই ট্রেনে। খড়্গপুর থেকে আন্দুল পর্যন্ত একটি মালগাড়িও চালানো হয় এ দিন মহিলা চালক ও গার্ড দিয়ে। রেলের মহিলা কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে।

Advertisement

আরও পড়ুন: নারী বাহিনীর আকাশ শাসন

রেল সূত্রের খবর, দক্ষিণ-পূর্ব রেলে বহু মহিলা কর্মী রয়েছেন। অনেক রুটে মহিলা চালক ও গার্ডেরা ট্রেন নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে থাকেন। পুরুষদের সঙ্গেই মিলেমিশে কাজ করেন তাঁরা। সব মহিলা কর্মীকে একসঙ্গে একই ট্রেন ব্যবহার করা যায় না। বিভিন্ন ট্রেন তাঁরা ছড়িয়েছিটিয়ে থাকেন। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “বছরের আর-পাঁচটা দিন মহিলা কর্মীরা বিভিন্ন ট্রেনে আলাদা ভাবে কাজ করেন। নারী দিবসে আমরা সকলকে খড়্গপুরে একত্র করে পুরোপুরি মহিলা নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চালাতে চেয়েছিলাম। তাই একটি এক্সপ্রেস ও একটি মালগাড়ি শুধু এ দিনের জন্য মহিলাদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছিল। নারীশক্তির বিকাশের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।”

Advertisement