শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যার ঘটনায় ভিন্রাজ্যে হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের খোঁজ এখনও চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের ‘মাথা’ এখনও অধরা। তাঁর খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডে ধৃত তিন জনের মধ্যে দু’জনকে পাকড়াও করা হয়েছে বিহার থেকে। এক জনকে ধরা হয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। সে ক্ষেত্রে বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ অন্য কোনও রাজ্যে পালিয়ে গিয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যে ভাবে চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হয়েছে, তাতে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, অন্তত এক-দেড় মাস আগে থেকে এই খুনের ছক কষা হয়েছিল। তবে ধৃতদের গ্রেফতারির পরে এ বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সে ক্ষেত্রে খুনের আগে ঠিক কত দিন ধরে পরিকল্পনা চলেছিল, কী ভাবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হল, সে বিষয়ে বিশদে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
গ্রেফতারির পর ইতিমধ্যে ধৃতদের জেরাও শুরু করেছেন আধিকারিকেরা। ধৃতদের জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডের ‘মাথা’ পর্যন্ত পৌঁছোতে চাইছে তদন্তকারী দল। চন্দ্রনাথ খুনের ‘মাথা’ ধরা পড়লেই হত্যার কারণ স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে যে সিট গঠিত হয়েছে, তাতে এসটিএফ এবং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র আধিকারিকেরাও আছেন। যে গাড়িটি খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি ঝাড়খণ্ড থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন। ওই গাড়ি থেকে বালি টোলপ্লাজ়ায় অনলাইনে টাকা পাঠানো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু হয় বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন:
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে হানা দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। ওই অভিযানেই ধরা পড়েন তিন অভিযুক্ত। বিহারের বক্সার থেকে গ্রেফতার করা হয় ময়াঙ্করাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্যকে। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজ সিংহকে। ধৃতদের তিন জনকেই কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবারই তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুন করা হয়। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে অন্য একটি চারচাকার গাড়ি চলে এসেছিল। তার ফলে চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। সেই সময় দু’পাশ থেকে দু’টি বাইকে চেপে আসে দুষ্কৃতীরা। চন্দ্রনাথ এবং তাঁর গাড়ির চালককে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর গাড়ির চালক এখনও হাসপাতালে।