Advertisement
E-Paper

নেত্রী মমতাকে চেয়ে পরিষদীয় দলে ‘ক্ষোভ’, তৃণমূলনেত্রী কি পারবেন বিদ্রোহীদের নিজের কাছে ফেরাতে?

বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থান সরল ভাবে ব্যাখ্যা করলে, তারা অভিষেক ‘মাইনাস’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে রয়েছেন। তা হলে কি ফের পরিষদীয় দলের রাশ ফিরবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ২২:১৫
(বাঁ দিক থেকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

(বাঁ দিক থেকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

বিদ্রোহী শিবিরেই পাল্টা বিদ্রোহের আগুন? নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হুকুম’ উপেক্ষা করে বুধবারই দলের ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা মনোনীত হয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ঠিক এক দিন পরেই সেই শিবিরেই আওয়াজ উঠল, ‘মমতাকেই দলনেত্রী দেখতে চাই’।

বুধবার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পাওয়ার পরেই সাংবাদিকদের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘পরামর্শদাতা’ হিসাবে উল্লেখ করেন ঋতব্রত। আর ওই শব্দ নিয়েই বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সোজাসুজি আপত্তি তোলেন পাঁচলার বিধায়ক গুলশন মল্লিক। বৈঠক শেষে তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, ‘‘আমাদের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই দলের শেষ কথা। ফলে তাঁর নামের পাশে আবার আলাদা করে পরামর্শদাতা শব্দটির প্রয়োজন কী? দলনেত্রীর বাইরে আলাদা করে এই ধরনের কোনও পদ তৈরি করার যুক্তি নেই।’’

সূত্রের খবর, বৈঠকের মধ্যে একই প্রশ্ন তুলেছেন আরও বেশ কয়েক জন বিধায়ক। উত্তরবঙ্গ থেকে জিতে আসা সঙ্গীতা রায় বসুনিয়ার কথায়, ‘‘আমরা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলনেত্রী হিসাবে মানি।’’ আর সেখান থেকেই জল্পনা তৈরি হচ্ছে বিদ্রোহী শিবিরেও কি বিদ্রোহের আগুন? তা হলে কি বিদ্রোহীদের ঘরে ফেরাতে পারবেন মমতা? আর সেখানেই এসে যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-প্রসঙ্গ। কারণ, বহিষ্কৃত দুই তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহা প্রথম থেকে নিশানা করেছিলেন অভিষেকের কর্তৃত্ব এবং সিদ্ধান্তকে। আর সেটাই কোথাও বাকি বিধায়কদেরও এক সুতোয় বাঁধতে সাহায্য করেছিল। বিদ্রোহী শিবিরের একাংশের কথায়, তাঁরা কেউ তৃণমূল ছেড়ে অন্য দল তৈরি করেননি। তাঁরা তৃণমূলে থেকেই, দলের একটি ‘অসাংবিধানিক’ সিদ্ধান্তকে অমান্য করে গণতান্ত্রিক পথে বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন করেছেন। কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় দলের কেউ নন।

বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থান সরল ভাবে ব্যাখ্যা করলে, তারা অভিষেক ‘মাইনাস’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে রয়েছেন। তা হলে কি ফের পরিষদীয় দলের রাশ ফিরবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে? সংখ্যার হিসাবে ফেরা সম্ভব বলেই মনে করছেন পরিষদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞেরা। প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের ব্যাখ্যা, যদি বিদ্রোহী শিবিরের ৫৯ জনের এক তৃতীয়াংশ বা তার বেশি অর্থাৎ ২০ জন বা তার বেশি সংখ্যক বিধায়ক, বাকি ২১ জন তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে একজোট হয়ে ফের নিজেদের প্রকৃত বিরোধী দল হিসাবে পেশ করতে পারে স্পিকারের কাছে, সে ক্ষেত্রে স্পিকার প্রত্যেকের কাছ থেকে আলাদা করে সমর্থনের হলফনামাও চাইতে পারেন। মান্নানের কথায়, ‘‘এর পরের পর্ব পুরোটাই স্পিকারের হাতে। তিনিই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। তিনি এর পর শুনানি করতে পারেন। আবার তিনি সেই আবেদন মুলতুবিও রাখতে পারেন।’’

তবে এত হিসাবনিকাশের কি আদৌ প্রয়োজন পড়বে? তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই জল মাপছেন। তাঁদের দাবি, এত কিছুর পরেও অভিষেককে বাদ দিয়ে তৃণমূলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও ইঙ্গিত মমতা ঘনিষ্ঠ বৃত্তের আলোচনায় দেননি। বরং, মমতার নজর আপাতত সর্বভারতীয় স্তরের বিজেপি-বিরোধী পরিসরের সমীকরণের দিকে। তা মজবুত করতেই আগামী ৮ জুন সর্বভারতীয় স্তরের বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দিতে যাবেন মমতা। সঙ্গে যাবেন অভিষেকও। ৭ জুনই দু’জনের দিল্লি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট, মমতা সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চে অভিষেকের উপস্থিতিকে উপস্থাপন করতে চাইছেন।

ফলে পরিষদীয় দলের এই বিদ্রোহ থেকে নেত্রী কতটা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

Ritabrata Banerjee Abhishek Banerjee Mamata Banerjee TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy