বাহিনীর কাজে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল লালবাজার। এক দিকে আধুনিকীকরণ, অন্য দিকে খরচ সাশ্রয়— এই দু’টিই ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তের পিছনে মূল উদ্দেশ্য। এ বার সেই বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য শহর জুড়ে চার্জিং স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশের সদর দফতর। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই চার্জিং স্টেশন তৈরির কাজ শেষ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথম দফায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কলকাতা পুলিশের বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য ২৫টি চার্জিং স্টেশন তৈরি করা হবে। এর জন্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই চার্জিং স্টেশন তৈরির জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জায়গা চিহ্নিতকরণের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে।
লালবাজার সূত্রের খবর, এক-একটি চার্জিং স্টেশন প্রায় ৯ ফুট উঁচু এবং ৫ ফুট চওড়া হবে। আরও জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ডিভিশন, থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ডগুলিতে এই চার্জিং স্টেশন তৈরি করা হবে। নির্ধারিত তালিকায় পাটুলি, তারাতলা, আলিপুর, মানিকতলা, কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স, পূর্ব যাদবপুর থানার পাশাপাশি ঠাকুরপুকুর ট্র্যাফিক গার্ড,
আলিপুর বডিগার্ড লাইন্স, টালা ট্র্যাফিক ট্রেনিং স্কুলের নাম রয়েছে প্রথম দফায়।
লালবাজার সূত্রের খবর, বছর কয়েক আগে কলকাতা পুলিশে বৈদ্যুতিক গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে, সেই গাড়ির সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ওই গাড়িগুলির জন্য চার্জিং স্টেশনও ছিল লালবাজারের মূল ভবনকেন্দ্রিক। সম্প্রতি এক ধাক্কায় আরও ২০০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি বাহিনীতে যোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলি চলে এলে সব মিলিয়ে কলকাতা পুলিশে ব্যবহারের উপযোগী বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২৫০টি। এ ছাড়া, কলকাতা পুলিশের তরফে নির্ভয়া প্রকল্পে ১৮১টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব নবান্নে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক বৈদ্যুতিক গাড়ি পরবর্তী সময়ে থানা এবং ডিভিশনের কাজেও ব্যবহার করা হবে, এমনটা অনুমান করেই চার্জিং স্টেশন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার।
লালবাজারের এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়িগুলিকে বাহিনী থেকে ধাপে ধাপে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। খরচ বাঁচাতে তার জায়গায় এই বৈদ্যুতিক গাড়িগুলি আনা হচ্ছে। তাই বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য চার্জিং পরিকাঠামো তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)