E-Paper

সল্টলেকে বাড়ি হস্তান্তর মামলায় আদালত অবমাননার রুল জারি ল্যান্ড ম্যানেজারের নামে

দীনেশের আইনজীবী প্রত্যুষ পাটোয়ারির দাবি, নগরোন্নয়ন দফতরকে মিউটেশন করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। কিন্তু মিউটেশন না হওয়ায় তাঁরা নগরোন্নয়ন দফতরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৩

—প্রতীকী চিত্র।

নগরোন্নয়ন দফতরের ল্যান্ড ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি হল। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি পার্থসারথি সেন সম্প্রতি ওই রুল জারি করেছেন। আদালতের নির্দেশ, ১৩ মার্চ নগরোন্নয়ন দফতরের ল্যান্ড ম্যানেজারকে রুলের পরিপ্রেক্ষিতে সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। প্রসঙ্গত, সল্টলেকে একটি বাড়ির নাম পরিবর্তনের জন্য মালিকের কাছে নগরোন্নয়ন দফতর কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা করে ট্রান্সফার ফি চেয়েছিল। ট্রান্সফার ফি নিয়ে সল্টলেকে বাড়ি হস্তান্তরে ২০১২ সালে ছাড়পত্র দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু পরে কলকাতা হাই কোর্ট সেই নিয়ম বাতিল করে দিয়েছে, এই দাবি করে নিম্ন আদালতে মামলা করেছিলেন ওই বাড়ির মালিক দীনেশ গয়াল।

দীনেশের আইনজীবী প্রত্যুষ পাটোয়ারির দাবি, নগরোন্নয়ন দফতরকে মিউটেশন করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। কিন্তু মিউটেশন না হওয়ায় তাঁরা নগরোন্নয়ন দফতরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। নগরোন্নয়ন দফতর ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেও তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তার পরেই রুল জারি করেন বিচারপতি সেন। উল্লেখ্য, অবমাননার শুনানিতে নগরোন্নয়ন দফতরের কৌঁসুলি সময় প্রার্থনা করলেও তা মঞ্জুর করেননি বিচারপতি।

উল্লেখ্য, বাম আমলে সল্টলেকে জমি-বাড়ি কিংবা কোঅপারেটিভ ফ্ল্যাট বিক্রির নিয়ম ছিল না। ৯৯৯ বছরের লিজ়ের শর্তে জমি দেওয়া হত। যে কারণে অতীতে একাধিক বার সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে বেআইনি ভাবে বাড়ি হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী কালে ট্রান্সফার ফি নিয়ে সল্টলেকে জমি-বাড়ি বিক্রিতে ছাড়পত্র দেয় তৃণমূল পরিচালিত সরকার। তাদের যুক্তি ছিল, গোপনে বেআইনি ভাবে জমি-বাড়ি বিক্রি হচ্ছে। সরকার কোনও কর পাচ্ছে না। আবার জমির দলিলে নাম বদল না হওয়ায় হেনস্থার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা।

কিন্তু এমনই একটি মিউটেশন সংক্রান্ত মামলায় ২০১৮ সালে কলকাতা হাই কোর্ট কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মিউটেশনের পদ্ধতি বাতিল করে দেয়। এর পরে ফের ২০২২ সালে কার্যত একই ভাবে মিউটেশনের পক্ষে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নগরোন্নয়ন দফতর। যেটি ২০২৬ সালে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছে। ফলে, বিনামূল্যে একমাত্র রক্তের সম্পর্কের কারও নামে ছাড়া আর সব ধরনের মিউটেশন বন্ধ রেখেছে নগরোন্নয়ন দফতর। তারা ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে বলেই খবর। এই জটিলতায় ইতিমধ্যেই নাম পরিবর্তনের জন্য নগরোন্নয়ন দফতরের কাছে টাকা জমা দেওয়া আবেদনকারীরাও চিন্তায় পড়েছেন।

নগরোন্নয়ন দফতরের ল্যান্ড ম্যানেজার রাজীব মণ্ডল তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি হওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে নগরোন্নয়ন দফতরের পাল্টা দাবি, দীনেশ গয়ালের মিউটেশন আদালতের নির্দেশ মেনে করে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত আদালতের কাছে সে বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Law and Order Urban Development Department

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy