কলকাতার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা। শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এ বার হাত মিলিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ। দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে ‘কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’, যার মূল লক্ষ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো।
পুরসভা সূত্রে খবর, সম্প্রতি একটি বেসরকারি হোটেলে এই পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে শহরের বর্তমান পরিবেশগত পরিস্থিতি, বায়ুর গুণগত মান, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং তার স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুরসভার এক শীর্ষ স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে শহরে দু’টি শিশুর মধ্যে একজন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ ও ধুলোবালির প্রভাব শিশুদের শ্বাসযন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি গত সাত দশকে ধীরে ধীরে শহরের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মশাবাহিত রোগের চরিত্রও বদলাচ্ছে। এখন শীতকালেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক পরামর্শকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিসেফের বিশেষজ্ঞেরা শহরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন এবং শিশুদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় ‘হিট ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হবে। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সচেতনতা কর্মসূচির মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই যৌথ উদ্যোগ সফল হলে আগামী দিনে কলকাতার পরিবেশগত মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে শিশুদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এই ‘কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ কার্যকর ভূমিকা নেবে বলেই আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।