ভোটের আগে নাগরিক পরিষেবা বেহাল। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভার একটি পঞ্চায়েত এলাকা ও উত্তর হাওড়ার একটি পুর এলাকার নাগরিকেরা অতিষ্ঠ। অভিযোগ, দীর্ঘ দিনের সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি। তাই সমস্যা আদায় করতে হাতিয়ার আন্দোলন।
ডোমজুড় বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত বাঁকড়া তিন নম্বর পঞ্চায়েতের রশিকল এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত প্রায় তিন বছর ধরে যাতায়াতের রাস্তায় জল জমে থাকে বছরের অধিকাংশ সময়। দুর্গন্ধময় পচা জমাজলের উপর দিয়েই মানুষ যাতায়াত করতে বাধ্য হন। জমা জল নিষ্কাশনের বিষয়ে পঞ্চায়েত উদাসীন। বহুবার পঞ্চায়েতে এই প্রসঙ্গে আবেদন করলেও কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয় না। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধান ও স্থানীয় বিধায়কের বোঝাপড়ার গেরোয় পড়ে এলাকার মানুষ সঠিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়েরা জানান, ন্যায্য পরিষেবা পেতে শনিবার বাধ্য হয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে প্রধান টুকটুকি শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ ফোনে জানিয়েছেন, কেউ বা কারা নর্দমায় বস্তা ফেলে দেওয়ার কারণে জল উপচে পড়ে রাস্তায়। রমজান মাসে যাতে মানুষের কোনও অসুবিধা না হয় সে দিকে নজর দিয়ে দ্রুত জলনিকাশি ব্যবস্থা করার জন্য তিনি পঞ্চায়েতে জানিয়েছেন।
অন্য দিকে উত্তর হাওড়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাত হলেই আবর্জনার স্তূপে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আগুন। দূষিত ধোঁয়ায় ভরে যাচ্ছে চারিদিক। শ্বাসকষ্টে টেকা দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের। এই সমস্যার জন্য অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিধায়ক। সমস্যার সমাধান না হলে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
নাগরিকেদের দাবি, দূষিত ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে তিনকড়ি বোস লেন, ভৈরব ঘটক লেন ও শশিভূষণ সরকার লেন। যার জেরে বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। বাসিন্দাদের দাবি, এই কারণের জন্যই দু’জন অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। ধোঁয়াজনিত সমস্যা চলছে দীর্ঘ প্রায় দু’মাস ধরে।
আরও পড়ুন:
লিলুয়া রেল ইয়ার্ড সংলগ্ন অঞ্চল যেন আবর্জনা স্তূপ। — নিজস্ব চিত্র।
লিলুয়া রেল ইয়ার্ড সংলগ্ন অঞ্চলে রয়েছে ফাঁকা জায়গা। অভিযোগ, এই জায়গাতেই আবর্জনা জমা হয় রেলের। যা কার্যত ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়েরা জানান, রাত হলেই এখানে কেউ বা কারা আগুন ধরিয়ে দেন। বিষাক্ত ধোঁয়া গ্রাস করে পুরো এলাকা। শনিবার উত্তর হাওড়ার বিধায়ক ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, ‘‘এর নেপথ্যে চক্রান্ত রয়েছে। রেলের আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দু’দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বড়সড় আন্দোলন হবে। সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, ‘‘রেল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের কাজের সঙ্গে কোনও দিন যুক্ত থাকে না। অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’