ছেলেধরা সন্দেহে মা-মেয়ে এবং তাঁদের গাড়িচালককে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত হলেন ২৫ জন। দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ২৩ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিল হুগলির চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক আদালত।
২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি হুগলির বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে মা-মেয়ে এবং তাঁদের গাড়ির চালককে ঘিরে ধরেছিলেন কয়েক জন। ছেলেধরা সন্দেহে তাঁদের মারধর করা হয়। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে প্রত্যেককে পুরিয়ে মারার অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্র হয় এলাকা। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় পুলিশকে। তিরবিদ্ধ হন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। জখম হন মোট ১১ জন পুলিশকর্মী।
ওই মামলায় ২৭ জনকে সাক্ষী করিয়েছিল সরকারি পক্ষ। সরকারি আইনজীবী জয়ন্ত সাহা সওয়াল করেন। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং সাক্ষ্যদানের প্রেক্ষিতে ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে চুঁচুড়া আদালত। শুক্রবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক পীযূষকান্তি রায়।
আরও পড়ুন:
আদালত গোপাল রায় এবং পূর্নিমা মালিক নামে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। বাকি ২৩ জন দোষীকে সাত বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘একটি মামলায় এক সঙ্গে ২৫ জনের সাজা ঘোষণায় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন অলোক চট্টোপাধ্যায়। বিবাদী পক্ষের মোট সাত জন আইনজীবী ছিলেন।’’ সরকারী আইনজীবী জয়ন্ত বলেন, ‘‘পুলিশ একটি পরিবারকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল। তার পরেও কর্তব্যে অবিচল থাকে। ঠিকঠাক তদন্ত করে চার্জশিট দেয় তারা। তার প্রেক্ষিতে আদালত রায়দান করল।’’