হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ, হাওড়া বন দফতর এবং বন্যপ্রাণপ্রেমীদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার হল ১৫টি চন্দনা পাখি (আলেকজ়ন্ড্রাইন প্যারাকিট)। উলুবেড়িয়া থানার পুলিশের নেতৃত্বে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এক অভিযুক্তকে। টিয়াগোত্রের পাখিগুলিকে পাঠানো হয়েছে গড়চুমুক বন্যপ্রাণ উদ্ধার কেন্দ্রে।
কয়েকদিন ধরেই পুলিশের কাছে খবর ছিলো খোলা বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখি— যেমন টিয়া, চন্দনা, ময়না, শালিক ইত্যাদি। ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন (১৯৭২) অনুযায়ী এদের ধরা বা পোষা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়া থানার একটি টিম এবং জেলার বন্যপ্রাণপ্রেমী সংগঠন ‘ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট’-এর সদস্যেরা উলুবেড়িয়ার বাজারপাড়ায় অনুপ গায়েন নামে এক পাখি বিক্রেতার বাড়িতে ক্রেতা সেজে যান। খবর দেওয়া হয় বনবিভাগকেও। অনুপ পাখি বিক্রির জন্য যখন তার বাড়িতে নিয়ে যান, তখনই তল্লাশি চালিয়ে তার ঘর থেকে উদ্ধার হয় ১৫টি ‘পাহাড়ি টিয়া’ নামে পরিচিত চন্দনা পাখি।।
পুলিশ পাখিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং অনুপকে গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তি আন্তর্রাজ্য বন্যপ্রাণ পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। বুধবার রাতেই বনকর্মী এবং আধিকারিকেরা উদ্ধার হওয়া পাখিগুলি উদ্ধার করেন এবং ধৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার অনুপকে উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বনবিভাগের জেরায় অনুপ জানিয়েছেন পঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাঁরা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি লুকিয়ে নিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি করেন। বিদেশি পাখি বিক্রির আড়ালে এইসব দেশীয় পাখির কারবার চলে।
ধৃতের সঙ্গে আরও কিছু বেআইনি পাখি ব্যবসায়ী জড়িত আছেন বলেও বনদফতর সূত্রের খবর। হাওড়ার বিভাগীয় বনাধিকারিক (ডিএফও) সুজিতকুমার দাস বলেন, ‘‘দেশীয় পাখি পাচারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত আছে খোঁজ চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের জন্য কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে যুক্ত সংগঠন ‘ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট’-এর সদস্য অর্ঘ্য মল্লিক বলেন, ‘‘১৯৭২ সালের ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী টিয়া, ময়না, শালিক-সহ সমস্ত দেশীয় পাখি বাড়িতে পোষা, বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। আমরা চাই পুলিশ ও বন বিভাগ এই সব বেআইনি পাখি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি কড়া পদক্ষেপ করুক।’’