কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে প্রথম বার বিনোদন খাতে কর আদায় ১১ কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে গেল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষ হতে এখনও হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি থাকলেও তার আগেই এই নজির গড়েছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই এই খাতে আদায় পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১২ কোটির ঘরে। রাজস্ব বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘‘এ বারের বিনোদন কর বাবদ আদায় সত্যিই ব্যতিক্রমী এবং তা পুরসভার আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।’’
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত অর্থবর্ষে যেখানে মোট আদায় হয়েছিল প্রায় ৮ কোটি টাকা, সেখানে এ বছর সেই অঙ্ক ইতিমধ্যেই ১১ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরে প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। আর্থিক বছর শেষ হওয়ার আগে বকেয়া আদায়ে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে, ফলে এই অঙ্ক ১৩ কোটি টাকাও ছুঁতে পারে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। বকেয়া কর আদায়ে পুরসভার কড়া অবস্থানের জন্যই এই সাফল্য মিলেছে বলে দাবি ওই সূত্রের। হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণ বিনোদন কর বকেয়া পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলিকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এমনকি ১০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকলেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
পুরকর্মীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে গিয়ে ‘ডিমান্ড নোটিস’ ধরিয়ে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর না মেটালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করে তাদের দরজায় পোস্টার টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে দোকান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক করখেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্মতলার শ্রীরাম আর্কেডের মতো বাণিজ্যিক এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে ১৫টির বেশি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমন কঠোর পদক্ষেপের জেরে বকেয়া কর মেটানোর প্রবণতা হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানাচ্ছে পুরসভা। এ ছাড়াও, ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া কর পরিশোধ না করলে দোকান নিলাম করে সেই অর্থ থেকে বকেয়া আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভার এই কড়া অবস্থানই বিনোদন কর আদায়ে নজির গড়ার পথে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।