শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল একটি বেসরকারি সংস্থার বাস। বাসের পিছনের অংশে নীচের দিকে মাথা ঢুকিয়ে চাকার অবস্থা খতিয়ে দেখছিলেন এক বাসকর্মী। আচমকা বাসের পিছনের অংশটি মাটির দিকে নেমে আসায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান সেই কর্মী। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম রমজান আলি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে সল্টলেকের করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ডে। সূত্রের খবর, ওই বাসে খালাসির কাজ করতেন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা রমজান। এ দিন সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য বাসটিকে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সেই সময়ে বাসের পিছন দিকে চাকার কাছে মাথা ঢুকিয়ে চাকা ঠিক রয়েছে কিনা, সেটাই খতিয়ে দেখছিলেন রমজান। হাইড্রলিক প্রযুক্তির ওই বাসের পিছনের ভারী অংশটি সেই সময়ে আচমকাই নীচে নেমে আসে। যার জেরে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রমজান। পুলিশ ওই বাসকর্মীকে উদ্ধার করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আরও ভাল ভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সল্টলেকে বাসকর্মীর মৃত্যুর ঘটনার পাশাপাশি, নিউ টাউনে সম্প্রতি পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এক মোটরবাইক চালক। মঙ্গলবার গভীর রাতে বাগুইআটি থানা এলাকার ওই হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম শাহবাজ মোল্লা (২২)। পুলিশ সূত্রের খবর, গত ২২ মার্চ দুপুরে নিউ টাউনের ইকো আর্বান ভিলেজমুখী রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই মোটরবাইকে ধাক্কা মেরে পালায় একটি অটো। তাতেই গুরুতর আহত হন চালক শাহবাজ। এর পরে সংজ্ঞাহীন এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পায়ের একাধিক জায়গায় হাড় ভেঙে গিয়েছিল এবং শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত ছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
বুধবার ইকো পার্ক থানায় মৃতের পরিবার অভিযোগ দায়ের করে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিধাননগর কমিশনারেটের সল্টলেক, রাজারহাট ও নিউ টাউনে পথ দুর্ঘটনায় ১৩ জন মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নিউ টাউনেই এই তিন মাসে পথ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৯।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)