E-Paper

পা-হারা পোষ্যকে নিয়ে ছাদে যাওয়ায় জরিমানা! বিতর্ক

জানা গিয়েছে, কয়েক বছর ধরে এন্টালি এলাকার ওই আবাসনে আছেন ফেবিয়ান লুইস। তাঁর একটি পোষা কুকুর রয়েছে। ফেবিয়ান জানিয়েছেন, কুকুরটিকে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল, সে তখন খুব ছোট ছিল। দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছিল। ওই অবস্থায় কুকুরটিকে বাড়িতে আনা হয়।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৪
পা-হারা এই কুকুরটিকে বহুতলের ছাদে ঘোরানো নিয়ে বিতর্ক।

পা-হারা এই কুকুরটিকে বহুতলের ছাদে ঘোরানো নিয়ে বিতর্ক। —নিজস্ব চিত্র।

দুর্ঘটনায় পিছনের একটি পা হারিয়েছিল সে। উদ্ধার করে সুস্থ করার পরে পোষ্যটিকে নিয়ে আসা হয়েছিল আবাসনের ঘরে। ছোটবেলায় পা হারানো সেই পোষ্য কুকুরকে আবাসনের ছাদে নিয়ে যাওয়ায় জরিমানা করা হল আবাসিককে। রীতিমতো রসিদ দিয়ে প্রথম দফায় ৫০০ টাকা এবং পরে আরও দেড় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কলকাতার বেচুলাল রোডের একটি বহুতল আবাসনের কমিটির এ ভাবে জরিমানা আদায় ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আবাসন কমিটির যদিও ব্যাখ্যা, মাসকয়েক আগের বৈঠকে ছাদে কুকুর নিয়ে ওঠায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সর্বসম্মতিক্রমে জরিমানা করা হবে বলেও ঠিক হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, কয়েক বছর ধরে এন্টালি এলাকার ওই আবাসনে আছেন ফেবিয়ান লুইস। তাঁর একটি পোষা কুকুর রয়েছে। ফেবিয়ান জানিয়েছেন, কুকুরটিকে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল, সে তখন খুব ছোট ছিল। দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছিল। ওই অবস্থায় কুকুরটিকে বাড়িতে আনা হয়। তাঁর অভিযোগ, তিনি ওই পোষ্যটিকে নিয়ে মাঝেমধ্যে বাইরে বেরোতেন। কখনও আবাসনের বাইরের রাস্তায়, কখনও আবার আবাসনের ছাদে তাকে নিয়ে যেতেন। অভিযোগ, সপ্তাহ দুয়েক আগে পোষ্যটিকে নিয়ে আবাসনের ছাদে গিয়েছিলেন ফেবিয়ান। সে সময়ে ছাদে অন্য আবাসিকেরাও ছিলেন। ছাদে পোষ্যকে নিয়ে কিছু ক্ষণ থাকার পরে তিনি চলে আসেন। এ জন্য পরে তাঁর কাছ থেকে রীতিমতো রসিদ কেটে ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এমনকি, রসিদে জরিমানা আদায়ের কারণও লিখে দেওয়া হয়।

ফেবিয়ানের কথায়, ‘‘ওর পা না থাকায় সব সময়ে ওকে নিয়ে দূরে যেতে পারি না। সেই জন্য আবাসনের ছাদে নিয়ে যেতাম। ওকে বাইরে নিয়ে গেলে অনেক সময়ে মল-মূত্র ত্যাগ করে ফেলে। সে সব যাতে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে নিতে পারি, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সঙ্গে নিয়েই গিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও জরিমানা থেকে রেহাই মেলেনি।’’ এমনকি, এর পরে আরও তিন দিন তিনি পোষ্যকে নিয়ে ছাদে যাওয়ায় মঙ্গলবার তাঁর হাতে দেড় হাজার টাকা জরিমানার রসিদ ধরানো হয়েছে।

যদিও এ ভাবে জরিমানা আদায় ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটির তরফে জরিমানা আদায়ের কথা স্বীকার করা হয়েছে। ওই কমিটির চেয়ারম্যান সুব্রত গোমস জানান, প্রত্যেক আবাসিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে চললেও ওই ব্যক্তি তাঁর কুকুরকে ছাদে নিয়ে গিয়ে মল-মূত্র ত্যাগ করাতেন। ছাদ নোংরা হত। গত অক্টোবরে আবাসিকদের সঙ্গে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ছাদে যে হেতু বাচ্চা ও বয়স্কেরা যান, তাই কেউ সেখানে কুকুর নিয়ে যেতে পারবেন না। জরিমানা অঙ্কও সেই বৈঠকেই ঠিক হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের কথা সকল আবাসিককে জানানোও হয়েছিল। চেয়ারম্যানের কথায়, ‘‘ওঁদের পোষ্য খুবই হিংস্র। আগে দু’বার আবাসনের দু’জনের বাচ্চাকে কামড়েছিল। তার পরেও একই ভাবে ছাদে পোষ্যকে নিয়ে গিয়ে মল-মূত্র ত্যাগ করাতেন। সিদ্ধান্ত মেনেই জরিমানা করা হয়েছে।’’

যদিও আবাসন কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যেরা। শহরে পশুপ্রেমী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আয়ুষি দে বলছেন, ‘‘এটা বেআইনি। তা ছাড়া, পৃথিবীতে আমাদের যেমন অধিকার আছে, তেমনই এই প্রাণিগুলিরও অধিকার রয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেওয়া উচিত।’’ বিতর্কের পাশাপাশি,
এ ভাবে জরিমানা আদায়ের আদৌ কোনও আইনি স্বীকৃতি আছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা বললেন, ‘‘ভারতের আইনে একমাত্র সাজা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বিচার ব্যবস্থার। জরিমানাও এক ধরনের সাজা। ফলে, কোনও ধরনের আবাসন কমিটির জরিমানা আদায় করার এক্তিয়ার নেই। আবাসন কমিটি ভারতের আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

pet dog Controversy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy