ছেলে-মেয়েকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দফায় দফায় ৫৮ লক্ষ টাকা নেওয়ায় অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক। টাকা দেওয়ার পরেও গত ছয় বছরে কোনও সরকারি চাকরি মেলেনি বলে অভিযোগ। অবশেষে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ব্যক্তি। মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে আনন্দপুর থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী ব্যক্তির নাম তপনকুমার মহাপাত্র। তিনি বাঁকুড়ার বাসিন্দা। পেশায় সরকারি কর্মচারী। পুলিশকে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আগে বাঁকুড়ার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বছর কয়েক আগে বদলি নিয়ে কলকাতায় আসেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, বাঁকুড়ার স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি গৃহশিক্ষকতাও করতেন অভিযুক্ত। তপনের ছেলে-মেয়েকে বাড়িতে পড়াতেন। সেই সূত্রের তপনের সঙ্গে অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তপনের দাবি, ছেলে-মেয়ের জন্য সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে তখনই অভিযোগকারীকে জানিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। সেই কাজের জন্যে দফায় দফায় নগদে, চেক বা অনলাইনে টাকা নেন অভিযুক্ত।
অভিযোগকারী পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল থেকে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষককে টাকা দিয়ে আসছেন। কখনও চার লক্ষ, সাত লক্ষ, আবার কখনও দুই লক্ষ টাকা। এমনকি, অভিযুক্ত বদলি নিয়ে কলকাতায় চলে এলেও এখানে এসে নগদে টাকা দিয়েছেন বলেতপনের দাবি।
এত বছরেও ছেলে-মেয়ের কোনও সরকারি চাকরির ব্যবস্থা না করে দেওয়ায় শিক্ষককে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন তপন। অভিযোগ, এর পরেই অভিযুক্ত শিক্ষক তপনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখনই আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হন প্রতারিত ওই ব্যক্তি। দফায় দফায় শিক্ষককে টাকা দেওয়ার একাধিক নথি থানায় জমা দিয়েছেন অভিযোগকারী।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা দেওয়ার বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)