E-Paper

ভিন্-রাজ্যে কাজে গিয়ে সমস্যা ঠেকাতে ভাষা শিক্ষা

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার করিমপুর থেকে বহু তরুণ কাজে অন্য রাজ্যে যান। তাঁরা সেখানে কাজ করতে গিয়ে যাতে ভাষাগত সমস্যায় জর্জরিত না হন, সেটাই সংস্থার মূল লক্ষ্য।

অমিতাভ বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০৮
যুবক-যুবতীদের হিন্দি শেখাচ্ছেন সৌমিক পাল।

যুবক-যুবতীদের হিন্দি শেখাচ্ছেন সৌমিক পাল। — নিজস্ব চিত্র।

চার বন্ধু সংস্থার নাম দিয়েছেন ‘লক্ষ্য’। যেমন নাম, তেমন কাজ। সংস্থার লক্ষ্যই হল, ভিন্-রাজ্যে কাজে গিয়ে ভাষা সমস্যায় পড়া পরিযায়ী বাঙালিদের সাহায্য করা। তাঁদের কাজ চালানোর মতো করে হিন্দি, মালয়ালম-সহ বিভিন্ন ভাষা বলিয়ে-কইয়ে নিচ্ছেন সংস্থার সদস্যেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার করিমপুর থেকে বহু তরুণ কাজে অন্য রাজ্যে যান। তাঁরা সেখানে কাজ করতে গিয়ে যাতে ভাষাগত সমস্যায় জর্জরিত না হন, সেটাই এই সংস্থার মূল লক্ষ্য। উদ্যোগের শুরুটা সাধারণ ভাবেই। করিমপুরের নাটনা গ্রামের উত্তম ঘোষ তাঁর তিন বন্ধুর কাছে প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, বাইরের রাজ্যে কাজ করতে গেলে ভাষা নিয়ে নানা ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয় বাংলাভাষী মানুষদের। সেখানে গিয়ে নিজের ভাষায় কথা বোঝাতে কিংবা অন্য ভাষা বুঝে উঠতে অনেকটা সময় লেগে যায়। তা ছাড়াও, হয়রানিও রয়েছে। সে ভাবনা থেকেই বছরখানেক আগে শুরু হয় ওই সংস্থা। যার কাজ, এলাকার যুবক ও যুবতীদের ভাষা শেখানো। বর্তমানে সংস্থাটি ২১ জন ছেলেমেয়েকে ভিন্-রাজ্যের ভাষা রপ্ত করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সংস্থার উত্তম ঘোষ বলেন, ‘‘আমরা এলাকার ছেলেমেয়েদের মানসিক গঠন তৈরি করার পাশাপাশি, ভিন্-রাজ্যে গিয়ে যাতে তাদের কোনও রকম ভাষা সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়, সে দিকে তাঁদের পারদর্শী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’’

উত্তম জানান, কর্মসূত্রে বেশ কয়েক বছর কেরলে ছিলেন। বলেন, ‘‘আমি সেখানে প্রথমে কাজ করতে গিয়ে খুব সমস্যার মধ্যে পড়েছিলাম। যে কারণে সেখানকার ভাষা সাধ্য মতো শিখেছি। মোটামুটি যা শিখেছি, সেটাই ছেলেমেয়েদের শিখিয়ে ভাষা রপ্ত করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে ওঁরা কেরলে কিংবা ওই ভাষাভাষী এলাকায় কাজ করতে গেলে কোনও সমস্যার মধ্যে না পড়েন।’’ তিনি আরও জানাচ্ছেন, এই শেখানোর বিনিময়ে কোনও অর্থ নেওয়া হয় না।

ওই চার বন্ধুর অন্যতম সৌমিক পাল। তিনি যুবক-যুবতীদের হিন্দি শেখান। তিনি বলেন, ‘‘আমি অনলাইনে হিন্দি শিখে এখন ছেলেমেয়েদের শেখাই। এক সময়ে উত্তর ভারতে কয়েকটি রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ভাষার সমস্যায় পড়েছিলাম। যে কারণে হিন্দি শিখেছিলাম। যেটুকু শিখেছি, হাতেকলমে সেটুকুই শেখাচ্ছি।’’

যেমন, পমি ঘোষ ও প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। ওঁরা নিয়মিত ভাষা শিখতে আসেন সংস্থাটিতে। তাঁদের কথায়, ‘‘আমরা এখানে বিনামূল্যে হিন্দি ভাষা শিখছি।’’ আবার, থানারপাড়ার দোগাছি গ্রামের রাজদীপ ঘোষ, হোগলবেড়িয়ার মুক্তদহ গ্রামের জিৎ মণ্ডল, আরবপুর গ্রামের বিট্টু মণ্ডল বলছেন, ‘‘আমরা ভিন্-রাজ্যের ভাষা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। এখানে এসে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali language

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy