Advertisement
E-Paper

ভূত ধরার যন্তর নিয়ে নিঝুম রাতে কবরখানায়

দিনের ব্যস্ততা ফুরোতেই পাল্টে যেতে থাকে কলকাতা। সন্ধে নামতেই যে যার নিজের জগতে ঢুকে পড়ে। কারও ভাল লাগে নাটক, তো কারও পালশালা।

উজ্জ্বল চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৬ ০১:৩০
অলঙ্করণ: অরিজিৎ বসু।

অলঙ্করণ: অরিজিৎ বসু।

দিনের ব্যস্ততা ফুরোতেই পাল্টে যেতে থাকে কলকাতা।

সন্ধে নামতেই যে যার নিজের জগতে ঢুকে পড়ে। কারও ভাল লাগে নাটক, তো কারও পানশালা। কেউ বাড়িতে বসে নির্ভেজাল সিরিয়াল, কেউ বা আবার টিভিতে খেলা। সপ্তাহান্তের শপিং মল, সিনেমা, নিদেনপক্ষে গঙ্গাপাড়— ক্যালাইডোস্কোপের মতোই রংবাহার সেই ইচ্ছেডানায়। এক এক জনের এক এক রকম ইচ্ছে। জীবনকে ছুঁয়ে দেখার এক এক রকমের প্রয়াস।

কিন্তু, এ সবের ভিতর একটু ব্যতিক্রমী ওই যুবকেরা। সন্ধে হলেই তাঁরা ভূত দেখতে বেরোন। কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যবসাদার। কারও আবার অভিনয়টাই পেশা। কিন্তু, নেশা একটাই। ভূতের সন্ধানে মুলুক চষা। আর মধ্য রাতে তাঁদের সঙ্গে থাকে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি। যা দিয়ে আসলে ভূত মাপা যায়। দেখা কি পাওয়া যায়? ওঁদের দাবি, যায় তো বটেই। আর সে ক্ষেত্রে বড়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ওই সব বিজ্ঞানসম্মত যন্ত্রপাতি। ভূত চতুর্দশীতে সেই ভূতসন্ধানী যুবকদের সঙ্গী হওয়া গেল। গন্তব্য ভবানীপুর গোরস্থান।

গোরস্থানে এত কম আলো কেন কে জানে!

এত বড় একটা চত্বরে হাতে গুণে দু’একটা বাতিস্তম্ভ। সেই হলদে আলোর দাপট এতটাই যে, তিন হাত দূরের কিছুকেও দেখা যাচ্ছে না। আলোর আরও একটু জোগান আছে। গুটিকয়েক সমাধির উপর জ্বলতে থাকা মোমবাতি। কিন্তু, সেই কাঁপা কাঁপা অস্পষ্ট আলো ওই সমাধিগুলিকে টপকে পাশেরটাতেও পৌঁছতে পারে না। অন্ধকার এতটাই!

এমন একটা পরিবেশে ভূত দেখানোর গাইড দেবরাজ সান্যাল। ভূত নিয়ে কাজ করছেন গত প্রায় সাত বছর। পারিবারিক ব্যবসার দেখভাল করার পাশাপাশি কয়েক জন মিলে একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। নামটাও ভারী অদ্ভুত! ‘ডিটেকটিভস অব সুপারন্যাচারাল’ (ডিওএস)। যেখান থেকেই অদ্ভুতুড়ে খবর আসে, সেখানেই ছুটে যান এই ‘গোয়েন্দা’রা। সকলের বয়স তিরিশের মধ্যেই। কবরডাঙার পরিত্যক্ত বাড়ি হোক বা কার্শিয়াঙের ডাউহিল, শোভাবাজার থেকে সোদপুর বা আসানসোল— একের পর এক জায়গায় ভূতের সন্ধান করে বেড়িয়েছেন তাঁরা। এখনও বেড়ান। বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই ভূতের একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টাও করেন। তবে সব ক্ষেত্রে যে হয়ে ওঠে, তেমনটা নয়।

ভবানীপুরের এই গোরস্থানটা যাকে বলে এক্কেবারে টাটকা। এখানে এখনও মৃতদেহ নিয়মিত আসে। চতুর্দিকে সারি সারি সমাধি। তার মধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মারা যাওয়া কয়েক’শো সাহেবের সমাধিও রয়েছে। দেবরাজই শুরু করলেন, ‘‘ওরা জানেন তো, একটা শরীর খোঁজে! তাই কুয়াশা, নয় তো ধোঁয়ার ভিতর ঢুকে পড়ে একটা চেহারা বানানোর চেষ্টা করে। ওরা তো অশরীরী।’’ গোরস্থানের ভেতর অন্ধকারের সঙ্গে মিশে রয়েছে কুয়াশা আর ধোঁয়া। হেমন্তের সন্ধেয় কলকাতা শহরে কুয়াশাও পড়ে তবে! বিকেলের দিকে বেশ কয়েকটা জায়গায় জঞ্জালে আগুন ধরানো হয়েছিল বোধহয়। সেই ধোঁয়াই চতুর্দশীর এই রাতে কুয়াশা আর অন্ধকারের সঙ্গে মিশে গিয়ে অমাবস্যার আবাহনে মেতেছে! সঙ্গে কান ধরানো ঝিঁঝিঁ-ডাক। ডাউহিলে নাকি এমন অশরীরী চেহারা দেবরাজরা বহু দেখেছেন। এমনকী, আসানসোলেও।

একটা সমাধিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে সকলে। কয়েকটা সমাধি পরে একটা মোমবাতি জ্বলছে। তার আলো কোনও মতেই এই সমাধি পর্যন্ত এসে পৌঁছচ্ছে না। সৌধের গায়ে লাগানো পাথরের ফলক থেকে জানা যায়, এই সমাধিতে যিনি সমাধিস্থ আছেন আজ তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। বিকেলবেলায় কারা যেন এসে ফুল দিয়ে গেছে। এখনও ধূপ জ্বলছে। দেবরাজের কথাটা শুনে আশা জাগে। তা হলে কি সম্ভাবনা আছে ‘তেনা’দের দেখা পাওয়ার? ছোট্ট উত্তর এল, ‘‘আবহ তো অনুকূল। বাকিটা দেখা যাক।’’

দেবরাজের মতে, আসলে গোটা ব্যাপারটাকেই ভূত বলে দাগিয়ে দেওয়াটা ঠিক নয়। কোথাও একটা অন্য রকম বিষয় আছে, যেটার ব্যাখ্যা এখনও বিজ্ঞানের অধরা। তাই বলে বিষয়টাকেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একটা অন্য শক্তি বা আধার বলা যেতে পারে। শক্তির অবিনশ্বর সূত্র মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এক জনের মৃত্যুর পর তাঁর মস্তিষ্কের যে শক্তি, সেটা তো নষ্ট হয়ে যেতে পারে না। কোনও না কোনও আকারে সে পরিবর্তিত হয়। আমরা সেটাকেই সুপারন্যাচারাল বলছি।’’ এমনটার প্রমাণ মিলেছে? দেবরাজ জানালেন, প্রমাণ হয়তো মেলেনি। কিন্তু যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তার একটা আভাস তো মেলেই।’’ বেশ কয়েকটা জায়গায় তার ব্যাখ্যা না মিললেও চর্চায় খামতি রাখেননি এঁরা।

পেশায় ওয়েব ডিজাইনার অরিন্দম ঘোষাল। নেশায় ভূত গোয়েন্দা। ডাউহিলের কথা পেড়ে বললেন, ‘‘ডাউহিলটা জাস্ট ভাবা যায় না। কিছু না কিছু ঘটবেই আপনার সঙ্গে। গোটা জায়গাটাই কেমন ছমছমে।’’ শেষ বার যখন দেবরাজরা সেখানে গিয়েছিলেন, তখন নাকি গোটা একটা গাড়ি কোনও কারণ ছাড়াই দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় থরথর করে কাঁপছিল। এমনকী, শুভজিত্ নামে তাঁদের এক সঙ্গীর পিঠে কিসে যেন আঁচড়েও দিয়েছিল! অথচ মোটা সোয়েটারের উপর থেকে কী ভাবে শুধু পিঠে অমন টানা আঁচড় লেগেছিল তা আজও রহস্য! কোনও যন্ত্রেই তার হদিশ মেলেনি।

ইঞ্জিনিয়ার শুভজিত্ সাহাও ভূতসন্ধানীদের দলে আছেন। তাঁর মোবাইলে রাখা সেই আঁচড়ের ছবি দেখালেন। দেখে মনে হয়, বন্য কোনও প্রাণী তার নখ দিয়ে আঁচড়ে দিয়েছে। অথচ হোটেলের ঘরে পোশাক বদলানোর আগে পর্যন্ত শুভজিত্ তা ভাল করে টেরই পাননি। কী হয়েছিল? শুভজিত্ বললেন, ‘‘ডাউহিল দিয়ে হাঁটছি। সবার সামনে আমি। হঠাত্ ঠিক হল, আমরা হোটেলে ফিরে যাব। কারণ আমাদের সঙ্গে তখন অনেকে ছিলেন, যাঁরা আর এগোতে সাহস পাচ্ছিলেন না।’’ ওঁদেরই কেউ এক জন একটা গাছের আড়ালে সাদা কাপড় পরা কাউকে দেখেছিলেন। এর পরেই গোটা টিমটা উল্টো দিকে ঘুরে যায়। ফলে, শুভজিত্ সকলের পিছনে পড়ে যান। ওঁর কথায়, ‘‘তখন পিঠটা হাল্কা জ্বালা জ্বালা করছিল। হোটেলে ফিরে দেখি এই কীর্তি।’’

এই অভিজ্ঞতা শোনার পরে সঙ্গী চিত্রশিল্পী অরিজিত্ বসু তাঁর জেঠার কাছে শোনা একটি ‘সত্যি ঘটনা’র কথা বলে দেবরাজের কাছে তার ব্যাখ্যা জানতে চান। এক বার নাকি ওই ভদ্রলোক বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু, মাঝরাস্তায় এসে তাঁর মনে হতে থাকে, কেউ যেন বাইকটা পেছন থেকে টেনে ধরে রেখেছে। আর তাঁর গোটা শরীরে কে যেন জিভ দিয়ে চেটে দিচ্ছে। বেশ কয়েক কিলোমিটার ওই ভাবে বাইক চালিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছন তিনি। সেখানে পৌঁছে দেখেন, তার গোটা শরীরটা ভিজে। শুনে দেবরাজ বললেন, ‘‘এরও কোনও ব্যাখ্যা আমরা পাইনি। অনেক ক্ষেত্রেই এমনটা দেখেছি।’’

ভূতে বিশ্বাস করেন আপনারা? আপনারা বলতে টিম দেবরাজ। আজ যদিও ওঁদের আর এক সদস্য পেশায় অভিনেত্রী ঈশিতা দাস নেই। বাকিরা আছেন।

জবাব দিলেন অরিন্দম। ‘‘আসলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা অনুভূতির। এই যে এখানে বসে রয়েছি আমরা। একটা অ‌নুভূতি কাজ করছে না?’’ হ্যাঁ, করছে বটে। কিন্তু সেটা তো যে কোনও নিস্তব্ধ জায়গাতেই করে। আর এখানে তো গা ছমছম করার যথেষ্ট উপকরণ রয়েছে। অন্ধকার, নৈঃশব্দ্য, ফুল-ধূপের গন্ধ, ঝিঁঝিঁর ডাক, কয়েক শো মিটারের মধ্যে কোনও জনমনিষ্যি না থাকা— আর সব থেকে বড় কথা, চার পাশে কবরের তলায় রয়েছে প্রাণহীন অসংখ্য দেহ। হয়তো সেগুলো টাটকা নয়, তবুও! অনুভূতি আর ভূতের অস্তিত্ব মেনে নেওয়া তো এক বিষয় নয়! এ বার জবাব দিলেন সুমন মিত্র। একটা ব্যান্ডের মূল গায়ক। বললেন, ‘‘নিশ্চয়ই এক নয়। সেই জন্যই তো আমরা ন্যাচারাল না বলে সুপার-ন্যাচারাল বলি। কিন্তু, যখন কোনও ঘটনা স্বাভাবিক ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, তখন আমাদের যন্ত্রের আশ্রয় নিতে হয়।’’

ঠিক এই সময়ে ফুট তিনেক দূরে একটা জায়গায় হঠাৎই আগুন জ্বলে উঠল। কোনও কিছুতে যেন কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সকলেরই বেশ একটু অবাক ভাব। মিনিট খানেকের একটা নীরবতা শেষে প্রথম মুখ খুললেন দেবরাজ, ‘‘বিকেলের জঞ্জাল তুঁষের আগুনের মতো ফের জ্বলে উঠেছে। ওটা কিছু নয়।’’ যদিও অরিজিত্ পরিস্থিতিটা একটু মেপে দেখার কথা বললেন দেবরাজকে।

যন্ত্রপাতি বেরলো গোয়েন্দাদের। বেরলো ভূত মাপার মিটার। আসলে যন্ত্রটার নাম ইএমএফ ডিটেক্টর। পুরোটা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড ডিটেক্টর। এই যন্ত্রে কোনও জায়গার চৌম্বকক্ষেত্রের তীব্রতা মাপা হয়। দেবরাজের মতে, যদি কোথাও কোনও সুপার ন্যাচারাল ঘটনা ঘটে, তবে এর তীব্রতা বেড়ে যায়। সাধারণত ০.০৩ থেকে ০.০৫-এর মধ্যে থাকে। ডাউহিলের মতো জায়গায় তা কী ভাবে যেন ৩০০ ছাড়িয়ে যায়!

অনেকটা ইলেক্ট্রিক শেভিং মেশিনের মতো দেখতে। কিন্তু, কিছুতেই সেটা ‘অন’ হচ্ছে না। ব্যাটারি খুলে, ফের ভরে, তাতে ঘষে, ঝাঁকুনি দিয়েও কোনও কাজ হল না। ডিটেক্টরের ব্যাটারি শেষ মনে হয়। কাজেই আগুন জ্বলার মুহূর্তে কোনও সুপার ন্যাচারাল কিছু ঘটেছিল কি না গোয়েন্দারা তা মাপতে পারলেন না। যদিও দেবরাজ গোড়া থেকে বলে আসছিলেন, তাঁরা সখের গোয়েন্দা মোটেই নয়!

শুভজিতের মোবাইলটা তখনও এ হাতে ও হাতে ঘুরছে। সেখানে কয়েক দিন আগে তোলা সুভাষ সরোবরের জল-টলটলে একটি ছবি দেখাচ্ছেন তিনি, ‘‘তলায় দেখুন। কিছু বুঝতে পারছেন?’’ জলে আবছায়া একটা বিমূর্ত কেমন... অরিজিৎ ভাল করে দেখে সেটার একটা স্কেচ আঁকলেন। একটা মেয়ের মুখের অর্ধেক, তাতে চোখ-নাক-ভ্রূ। শুভ বললেন, ‘‘এক্সাক্টলি!’’ কিন্তু, এতে কী বোঝা গেল? শুভ্রজিতের জবাব, ‘‘কিছু তো একটা ছিল। না হলে এমন ছবি উঠল কেন ক্যামেরায়?’’ তার মানে সুভাষ সরোবরে ভূত আছে? উত্তর এল না।

গোরস্থানেও মোবাইলে ছবি তোলা হল। বেশির ভাগেরই কালো স্ক্রিন। কিছু ওঠেনি। আর কয়েকটিতে গাঢ় অন্ধকারে জেগে থাকা সমাধিস্থলের ক্রসগুলোর ছবি উঠেছে। কোথাও কোনও অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেল না। আচ্ছা, কোথাও যদি সুপার ন্যাচরাল কিছু হয়, মানে স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে ভৌতিক ক্রিয়াকলাপ থাকে, তা ধরা যাবে কী করে?

গৌরব তিওয়ারির এক কালের সঙ্গী দেবরাজ তাঁদের কর্মপদ্ধতি বলছিলেন। যে বাড়িতে বা এলাকায় এমনটা হয়, প্রথমে সেখানকার চৌম্বকক্ষেত্রের তীব্রতা মাপেন ওঁরা। যদি স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়, তবে ধরে নেওয়া হয় সেখানে অস্বাভাবিক কিছু আছে। এর পর থার্মোমিটার দিয়ে সেখানকার তাপমাত্রা মাপা হয়। তাতে যদি দেখা যায় তাপমাত্রা ভীষণ ওঠানামা করছে, তবে সেটাও অস্বাভাবিক। এর পর ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা, লেসার গ্রিড, আল্ট্রা ভায়োলেট টর্চ, ইনফ্রা রেড ক্যামেরা, কম্পাস— বিভিন্ন যন্ত্রের সাহায্যে ঘটনার একটা ব্যাখ্যা খোঁজা হয়। এমনকী, ক্যামেরাওয়ালা ড্রোনও ব্যবহার করেন এই গোয়েন্দারা। আসানসোলের একটি পোড়ো বাড়ির তিনতলার ঘরে কিছুতেই পৌঁছাতে পারছিলেন না ওঁরা। পরে এই ড্রোনের সাহায্যেই নাকি সেই ঘরের ছবি তুলে তা ঘেঁটে দেখা হয়।

বিকেল থেকে সন্ধে, সন্ধে থেকে রাত— এর মধ্যে একটা পরিবর্তন ছিল। কি‌ন্তু, গত কয়েক ঘণ্টা পরিবেশে কোনও বদল নেই! তাই অরিজিত্ই প্রস্তাব দিল একটি হাঁটাহাটির। উঠতেই বোঝা গেল, সকলের পায়ে ঝিন। নড়াচড়া করা যাচ্ছে না তেমন। দু’এক জন এ পাশ ও পাশ করছেন বটে, কিন্তু বেশি দূরে যাচ্ছেন না কেউই। দেবরাজের নির্দেশ, অন্ধকারে না যাওয়াই ভাল। সাপ থাকতে পারে! কিন্তু অরিজিত্ বললেন, এগোলে নাকি ওর মনে হচ্ছে কে যেন পেছনে পেছনে আসছে!

আল্ট্রা ভায়োলেট টর্চটাকে গোরস্থানে ঘোরালেন সুমন। কিন্তু, কিছু দেখা গেল না। পাশের সমাধির মোমবাতিটা এর মধ্যেই নিভে গেছে। ঝুপ্পুস অন্ধকারটাও যেন আরও কিছুটা দলা পাকিয়ে গেল। কিন্তু, তেনাদের তো দেখা নেই। দেবরাজ জানাল, আসলে মানুষ যেখানে মারা যায় তাঁর মস্তিস্কের ‘এনার্জি’ অনেক ক্ষেত্রেই সেখানে থেকে যায়। খুব একটা বাইরে আসে না। ফলে গোরস্থানে সুপার ন্যাচারাল কিছু থাকার সম্ভাবনা বেশ খানিকটা কম। অরিজিতের প্রশ্ন, ‘‘তা হলে হাসপাতালে ভূত পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই?’’ দেবরাজ জানালেন, সম্ভাবনা বেশি।

চতুর্দশীতে সব কিছুর আয়োজন ছিল। কিন্তু, তাদের দেখা আর মিলল না।

ভূতসন্ধানীরা তাই বেরিয়ে পড়লেন। এখানে আর নয়। অন্যত্র। অন্য কোনও সন্ধ্যায় অন্য কোনওখানে ফের ভূত মাপতে যাবেন তাঁরা।

অলঙ্করণ: অরিজিৎ বসু।

আরও পড়ুন: ভুতুড়ে সেই ১০ স্টেশন...

Ghost graveyard Night Ghost Hunting Equipment
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy