রাতে বাড়ির মালিকের ঘরে বসে টিভিতে খেলা দেখছিলেন। খেলা শেষ হওয়ার আগেই খাওয়াদাওয়া সেরে নিজের ঘরে চলে যান। এর পরে রাতে সেই ভাড়ার ঘরের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হল চল্লিশ ছুঁই ছুঁই ওই যুবকের দেহ। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শুক্রবার রাতে, সরশুনা থানা এলাকার বাগপোঁতা রোডের ঘটনা। খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হলেও শনিবার রাত পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম ভোলানাথ বিশ্বাস (৩৯)। জীবনতলার বাসিন্দা ভোলানাথ করোনার সময় থেকে বাগপোঁতা রোডে ভাড়া ছিলেন। এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ বাড়ির পাশেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ মেলে। ঘাড়ে ও মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা। নিয়ে আসা হয় পুলিশ কুকুরও। প্রাথমিক ভাবে এটি খুনের ঘটনা বলে পুলিশ নিশ্চিত হলেও কারণ নিয়ে ধন্দে তারা। লুটপাট, মদ্যপানের আসরে বচসা অথবা পুরনো কোনও বিবাদ— সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দু’টি জলের বোতল এবং মৃতের মোবাইল ফোনটি মিলেছে। ফলে, সেখানে পরিচিত কারও উপস্থিতির আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা। কলকাতা পুুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম ডিভিশনের উপ-নগরপাল রাহুল দে বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে ওই ব্যক্তি খুন হয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। আর কিছু এখনই বলা সম্ভব নয়।’’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোলানাথ ছিলেন অবিবাহিত। যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, শুক্রবার সেখানেই পাঁচিল তৈরির কাজ করছিলেন। ভাড়াবাড়ির প্রৌঢ়া মালকিন ফুলুরানি নস্কর বলেন, ‘‘রাতে আমাদের সঙ্গেই খেলা দেখেছিল। পর পর উইকেট পড়তে দেখে চলে যায়। পরে শুনি, খুন হয়ে গিয়েছে। আমরা ঘরে ছিলাম, কোনও আওয়াজ পাইনি। কে এখানে ঢুকে খুন করে চলে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’’ রাতে স্থানীয়েরা সরশুনা থানায় খবর দিলে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। বাড়ির মালিকের তরফেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। শনিবার ঘটনাস্থলে আসেন ডিভিশনের ডিসি রাহুল দে। ভাড়াবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, ভোলানাথের সঙ্গে কারও পুরনো বিবাদ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে পরিচিত কেউ এই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)