Advertisement
১৬ জুন ২০২৪

সরকারি হাসপাতালে বাড়তি রক্ষী

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এই লাঠিধারীদের দেখলে অনেকেই পুলিশের লোক বলে ভাবছেন।

প্রহরা: লাঠি হাতে এ ভাবেই ঘুরছেন স্বাস্থ্য দফতরের নিরাপত্তাকর্মীরা। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক

প্রহরা: লাঠি হাতে এ ভাবেই ঘুরছেন স্বাস্থ্য দফতরের নিরাপত্তাকর্মীরা। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক

দীক্ষা ভুঁইয়া
শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ০০:৪৭
Share: Save:

হাতে ফাইবারের লাঠি নিয়ে সাধারণ পোশাকে হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাঘুরি করছেন বেশ কয়েক জন। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেট দিয়ে গাড়ি ঢুকে দাঁড়াতেই তাঁদেরই এক জন এগিয়ে এলেন। জানালেন, রোগী নেমে গেলেই গাড়ি নিয়ে চলে যেতে হবে হাসপাতালের পিছনের পার্কিং লটে।

কয়েক মুহূর্ত পরেই হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিট থেকে এক বৃদ্ধকে নিয়ে চার-পাঁচ জনের দল মিলে জরুরি বিভাগের গেটের দিকে যেতেই এগিয়ে এলেন তাঁদের আর এক জন। জানালেন, রোগীর সঙ্গে দু’জন যেতে পারবেন। বাকিদের অপেক্ষা করতে হবে নীচে।

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এই লাঠিধারীদের দেখলে অনেকেই পুলিশের লোক বলে ভাবছেন। কিন্তু এঁরা কেউই পুলিশ নন। এঁরা স্বাস্থ্য দফতরের নিরাপত্তাকর্মী। তবে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য এঁদের নিয়োগ করেছে কলকাতা পুলিশই।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এমন কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা গেল, তিন মাস হল আর জি কর হাসপাতালে ২৫ জন রক্ষীকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা আউটপোস্টের পুলিশের সঙ্গে হাসপাতালের

বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নিরাপত্তার দিকে নজর রাখেন। কিন্তু হাতে লাঠি পেলেন কোথা থেকে? তাঁরাই জানালেন, আউটপোস্ট থেকেই মিলেছে। আর জি কর হাসপাতালেই বেশ কয়েক বার রোগীর পরিজনেরা উত্তেজিত হয়ে মূল গেট-সহ জরুরি বিভাগে এমন ভাঙচুর চালিয়েছিলেন যে অনেক সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল। হাতে লাঠি থাকলে রোগীর পরিবার ভাবেন, সাধারণ পোশাকে পুলিশ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাতে হাসপাতাল চত্বরে অযথা উত্তেজনা অনেকটাই কম হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের।

তবে শুধু নিরাপত্তা নয়। আর জি কর হাসপাতালে নিযুক্ত এই কর্মীরা এগিয়ে যাচ্ছেন রোগীর সাহায্যার্থেও। এক অসুস্থ বৃদ্ধকে ধরে ধরে কোনও মতে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখে এগিয়ে এসেছিলেন এই নিরাপত্তাকর্মীদের এক জন। বৃদ্ধকে ভর্তি করে বে়ডে দেওয়া পর্যন্ত ওই নিরাপত্তাকর্মী সঙ্গে থাকায় সুবিধা হয়েছিল বৃদ্ধ ও তাঁর স্ত্রীর।

আর জি করের পাশাপাশি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাঙুর হাসপাতাল-সহ এসএসকেএমেও নিয়োগ করা হয়েছে ২৫ জন করে নিরাপত্তাকর্মী। ভিজিটিং কার্ড ছাড়া কেউ ওয়ার্ডে ঢুকছেন কি না, জরুরি বিভাগে রোগীর সঙ্গে একাধিক লোক ঢুকছেন কি না, মূলত তা দেখার দায়িত্ব তাঁদের উপরে। যদিও কলকাতার সব ক’টি মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালেরই নিজস্ব কিছু নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। সঙ্গে থাকেন আউটপোস্টের পুলিশকর্মীরাও। কিন্তু তার পরেও রোগী-মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালগুলিতে ভাঙচুর কিংবা চিকিৎসকদের উপরে চড়়াও হওয়ার ঘটনা ঘটে। থানা থেকে পুলিশবাহিনী আসার আগেই পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যাতে চলে না যায়, সে জন্যই এই নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে বলে হাসপাতালগুলির তরফে জানানো হয়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

অন্য বিষয়গুলি:

RG Kar Medical College Hospital Security
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE