E-Paper

ফরাক্কায় ব্লক অফিস ভাঙচুর, ফর্ম ৭ নিয়ে ক্ষোভ বিজেপির

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় বিএলও-দের বিক্ষোভ ও গণ-ইস্তফা কর্মসূচির মধ্যেই, তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতিতে এক দল লোক ব্লক অফিসে চড়াও হয়ে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৪
Controversy boils over claims & objections submission in SIR

নির্বাচন কমিশনের দফতরে বিজেপি নেতারা। —নিজস্ব চিত্র।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) ঘিরে দু’রকম বিক্ষোভে তপ্ত হল নানা জেলা। ভোটার সম্পর্কে আপত্তি বা নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম ৭ জমা দিতে গেলে তা নেওয়া হচ্ছে না, এই অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরেও এই নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ জানাল বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস। আবার কাজের চাপ ও হয়রানির অভিযোগে নানা জায়গায় বিক্ষোভ দেখালেন বিএলও-রা। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় বিএলও-দের বিক্ষোভ ও গণ-ইস্তফা কর্মসূচির মধ্যেই, তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতিতে এক দল লোক ব্লক অফিসে চড়াও হয়ে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।

ফরাক্কায় বুধবার বিএলও-দের বিক্ষোভ চলাকালীনই, এসআইআর বাতিলের দাবিতে তৃণমূলের বিক্ষোভ শুরু হয় ব্লক অফিসের সামনে। দুপুর দেড়টা নাগাদ দলবল নিয়ে ব্লক অফিসে পৌঁছন ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। অফিসের মধ্যে বিক্ষোভ, তার পরে বিডিও-র ঘরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু হয়। বিডিও ঘরে ছিলেন না। চেয়ার-টেবিল ভাঙা হয়। পরে মনিরুলের দাবি, ‘‘বিএলও-রা গণ-ইস্তফা দিয়ে ঠিক করেছেন! আমিও একটু আগে ব্লক অফিসে আন্দোলন করে এসেছি। যদি এর জন্য জেল খাটতে হয়, খাটব। গুলি খেতে হয়, খাব।’’ জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া বলেন, ‘‘ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মহকুমাশাসক (জঙ্গিপুর) গাদ্দাম সুধীরকুমার রেড্ডিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুরে কারা জড়িত তদন্তের রিপোর্ট পেলেই বোঝা যাবে।” বিডিও-র করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং মুর্শিদাবাদের জেলাশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতে মগরাহাট-১ ব্লক অফিসের সামনে বিএলও-দের একাংশ এ দিন পথ অবরোধে শামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, অনেক ভোটারকে একাধিক বার শুনানিতে ডাকায়, তাঁদের উপরে চাপ আসছে। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের ফুটিসাঁকোর কাছে এসআইআর নিয়ে হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পথ অবরোধে যোগ দেন কয়েক জন বিএলও। কাজের পদ্ধতি নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ডোমজুড় ব্লক অফিসে এসে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১৭ জন বিএলও।

ফর্ম ৭ জমা না-নেওয়া নিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেই এ দিন প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। হুগলির চুঁচুড়ায় মঙ্গলবারের পরে বুধবারও মহকুমাশাসকের (সদর) দফতরে ফর্ম ৭ জমা দিতে যান বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ। তাঁদের হট্টগোলে শুনানি প্রক্রিয়া থমকে যায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি সেখানে পৌঁছে জানিয়ে দেন, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিএলএ-রা প্রতি দিন ১০টি করেই আবেদন বিএলও-কে জমা দিতে পারবেন। বনগাঁয় মহকুমাশাসক ঊর্মি দে বিশ্বাসের দফতরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তিন বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার, অশোক কীর্তনিয়া ও সুব্রত ঠাকুর। অশোকের দাবি, “মঙ্গলবার পর্যন্ত ফর্ম ৭ জমা নেওয়া হলেও, বুধবার অজ্ঞাত ফোন আসে। তার পর থেকে ফর্ম নেওয়া বন্ধ করা হয়।” একই অভিযোগ বিজেপি নেতা অমিত মালবীয়ের। কল্যাণীতে বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় মহকুমাশাসকের দফতরের ভিতরে অবস্থানে বসেন। কল্যাণীর তৃণমূল নেতা অরূপ মুখোপাধ্যায় সেখানে গেলে, দু’পক্ষের বচসা বাধে। দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া, দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর-সহ নানা জেলায় ফর্ম ৭ জমা না-নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

রাজ্যে যে ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে মঙ্গলবারই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ভোট না হতে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সিইও দফতরে গিয়ে এ দিন সেই সুরই শুনিয়ে এসেছে বিজেপির প্রতিনিধি দল। বিজেপি নেতা তাপস রায়ের বক্তব্য, ‘‘এক জন বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। আবার এক জনও অবৈধ ভোটারের নাম থাকবে না। এটা না হলে আমরা ভোট হতে দেব না! সেই কথা স্পষ্ট জানিয়ে এসেছি।’’

তৃণমূলও কমিশনের রাজ্য দফতরে গিয়ে ফর্ম ৭ জমা সম্পর্কিত নিয়ম স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। সিইও-কে দেওয়া দাবিপত্রে বলা হয়েছে, নাম বাদ দেওয়ার এই চেষ্টার পিছনে বিজেপির ‘চক্রান্ত’ রয়েছে। এক জনের কাছ থেকে কতগুলি ফর্ম জমা নেওয়া যায়, তা স্পষ্ট করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এসআইআর-এর নামে কমিশন যা করছে, তার আগাগোড়া শুধু বাদ দেওয়ার ভাবনা! এই ৭ নম্বর ফর্মে যে কেউ যে কোনও ভোটার সম্পর্কে আপত্তি করতে পারে। তবে যাঁর সম্পর্কে আপত্তি, অবশ্যই তাঁর কথা শুনে কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ কমিশন সূত্রের বক্তব্য, কারও নামে আপত্তি এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডেকে শুনানি করাই নিয়ম।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR BJP West Bengal CEO Office

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy