Advertisement
E-Paper

‘এসআইআর মানছি না’ স্লোগান তুলে দলবল নিয়ে বিডিও অফিসে তৃণমূল বিধায়ক, বন্ধ শুনানি, চলল ভাঙচুর!

ঘটনার সূত্রপাত, বিএলও-দের বিক্ষোভ ঘিরে। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে নথি নিয়ে বার বার হয়রানি করা হচ্ছে। বিএলও-রা যখন পদত্যাগ করতে চান, তখনই বিডিও অফিসে প্রবেশ করেন তৃণমূল বিধায়ক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৩
(উপরে) বিডিও অফিসে ভাঙচুরের দৃশ্য। (নীচে) ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম।

(উপরে) বিডিও অফিসে ভাঙচুরের দৃশ্য। (নীচে) ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। —নিজস্ব ছবি।

অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ভাগাভাগির চেষ্টা চলছে। এমনই অভিযোগ তুলে দলবল নিয়ে বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক বিধায়কের বিরুদ্ধে। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে গেল শুনানি। পরে নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশে দায়ের হয়েছে এফআইআর। ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন দু’জন।

বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম দলবল নিয়ে ঢোকেন ফরাক্কার বিডিও অফিসে। বিধায়কের অভিযোগ, ‘‘এসআইআরের নামে রাম আর রহিমের মধ্যে বিবাদ বাধানো হচ্ছে। কারও নাম রাম শুনলে কোনও নথি লাগছে না। রহিমের নাম শুনলেই চোদ্দো গুষ্টির খতিয়ান চাইছেন! নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিচারিতা মানব না। ফরাক্কার মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয়, মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে।’’

এর পর তৃণমূল বিধায়ক নির্বাচন কমিশন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। তত ক্ষণে তাঁর সঙ্গীরা বিডিও অফিসে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নেতৃত্বেই সরকারি ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। লাথি মেরে উল্টে দেওয়া হয় প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল, বন্ধ করে দেওয়া হয় শুনানি।

ঘটনার সূত্রপাত, বিএলও-দের বিক্ষোভ ঘিরে। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে নথি নিয়ে বার বার হয়রানি করা হচ্ছে। এই ‘মানসিক চাপে’ ইআরও-র কাছে গণ ইস্তফাপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন কয়েক জন বিএলও। পরিস্থিতি জটিল হয় যখন বিধায়ক মনিরুলের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী ‘এসআইআর মানছি না, মানব না’ স্লোগান দিতে দিতে বিডিও অফিসে চড়াও হন। বিধায়কের দাবি, বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের মানুষের নথিপত্র নিয়ে দ্বিচারিতা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে তিনি রাস্তায় নেমেছেন।

বিধায়কের উপস্থিতিতে ভাঙচুর নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। ফারাক্কার বিডিও বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না। অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদের বিধায়ক বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘মানুষকে বিভ্রান্ত করতে নাটক করছে তৃণমূল। বিডিও-রা বেশির ভাগ জায়গায় তৃণমূলের কথায় কাজ করছেন। সে দিক থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে নতুন নাটক করছে তৃণমূল।’’

এসআইআরের শুনানি চলাকালীন ফরাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে ফোনে কথা বলল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, পুলিশের ডিজিকে এফআইআর দায়ের করতে বলা হয়েছে।

ডিজিকে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, ওই ঘটনায় অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে। না হলে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে হস্তক্ষেপ করা হবে। ডিজি কমিশনকে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

TMC MLA SIR West Bengal SIR farakka BDO office
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy